বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা

সর্বোচ্চ শনাক্তের দিনে ময়মনসিংহে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়াল

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

গত পয়লা এপ্রিল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে কভিড-১৯ শনাক্ত পরীক্ষা শুরু হয়। শুরুর দিকে আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও গত মাসের ১৫ তারিখের পর হু হু করে বাড়ছে। গত সোমবার বিভাগে এক দিনে সর্Ÿন্ডোচ্চ ১৪৪ জন কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ২০০৫-এ গিয়ে ঠেকেছে। আর সুস্থ হয়েছেন ৮০০ জন। করোনার থাবায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন। এই বৃদ্ধির জেরে ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুরে ৪১৬, শেরপুরে ১৮৩ ও নেত্রকোনায় ৩৪৭ জনসহ মোট ৯৬৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। শুধু ময়মনসিংহ জেলাতেই এ ভাইরাসে সংক্রমিত হলেন ১০৫৯ জন। এর মধ্যে ১১৩ জন চিকিৎসক, ১১৪ জন নার্সসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ২৩০ জন। বিপরীতে ময়মনসিংহে ১১, জামালপুরে পাঁচ, নেত্রকোনায় তিন ও শেরপুরে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগীয় (স্বাস্থ্য) পরিচালক আবুল কাশেম এসব সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান, ‘এ পর্যন্ত ৮০০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। ১১৬৫ জন আইসোলেশনে আছে। ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে ১৭ জনকে। এ পর্যন্ত ২৪ হাজার ৪৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।’ তবে পরিসংখ্যান বলছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যার বিবেচনায় সবার উপরে আছে ময়মনসিংহ জেলা। এর মধ্যে সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫১৬, ধোবাউড়ায় ৩৭, হালুয়াঘাটে ১৯, ফুলপুরে ৪৫, তারাকান্দায় ১৫, গৌরীপুরে ১০, মুক্তাগাছায় ৩৫, ফুলবাড়িয়ায় ২৬, ত্রিশালে ৪২, ঈশ্বরগঞ্জে ৬৩, নান্দাইলে ২৬, গফরগাঁওয়ে ৪১ ও ভালুকায় ১৮৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম মশিউল জানিয়েছেন, ‘অন্য তিন জেলার চেয়ে ময়মনসিংহ জেলার মানুষ অনেক বেশি। সে কারণে আক্রান্তের সংখ্যাও বেশি। ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, কাঁচিঝুলি, আকুয়া এবং ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।’

অন্যদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের সবচাইতে বেশি সংখ্যক চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে জড়িত ২০১ জন কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যে হাসপাতালটির ৫৬ জন চিকিৎসক, ৭১ জন নার্স ও অন্যান্য ৭৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

আশার কথা দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ময়মনসিংহবাসী কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল পেয়েছে। মমেক হাসপাতালের নতুন ভবনের পঞ্চম থেকে অষ্টম তলা পর্যন্ত চারটি ফ্লোরে এ সেবা দেওয়া হবে। যেখানে রয়েছে দশটি আইসিইউ, ৪০টি কেবিন ও ১০০ শয্যা। গত শনিবার এর উদ্বোধন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ময়মনসিংহ অঞ্চলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। সারা দিনই সড়কগুলোতে থাকছে মানুষের ভিড়, বালাই নেই সামাজিক দূরত্ব মানার। দেদার চলছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিকশা। এমনকি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও যাচ্ছে এক  জেলা থেকে অন্য জেলা-উপজেলা পর্যন্ত।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর