শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৫৫

হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে তৈরি হলো দেশের একমাত্র একক নদীটির নির্দিষ্ট একটি কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে। বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করায় ‘তদারকি কমিটির অনুমতি ব্যতিরেকে নতুন পানি শোধনাগার, সেচ প্রকল্প স্থাপনের মাধ্যমে পানি উত্তোলন না করাসহ নদী সুরক্ষায় ১২টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। খাগড়াছড়ির রামগড় ও মানিকছড়ির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ৯৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে হালদা নদী তীরের  ২৩ হাজার ২২ একর জমিসহ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী ও পাঁচলাইশ বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজের অধীনে আছে। জানা যায়, হালদা নদীতে রুই মাছ জেনেটিক্যালি বিশুদ্ধ। তাই এপ্রিল-জুন মাসে প্রজনন মৌসুমে রুইয়ের পর্যাপ্ত নিষিক্ত ডিম নদীতে পাওয়া যায়। হালদা নদী হলো বিশ্বে স্বাদু পানির মাছের জন্যও একমাত্র স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র। এ ছাড়া হালদা নদী বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিনের (Platanista gangetica) বাসস্থান। তবে দূষণ ও বাঁধের কারণে হালদা হারিয়েছে তার নিজস্ব চরিত্র। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিচার্স ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে রুই জাতীয় মাছের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও গাঙ্গেয় ডলফিনের আবাসস্থল সংরক্ষণের লক্ষ্যে হালদা নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়।

এটি প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত।’ জানা যায়, বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ এলাকায় ১২টি শর্ত কার্যকর হবে। শর্তগুলো হলো- বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ তদারকি কমিটির অনুমতি ব্যতিরেকে নতুন পানি শোধনাগার, সেচ প্রকল্প স্থাপনের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করা যাবে না, কোনো প্রকার মাছ ও জলজ প্রাণী ধরা বা শিকার করা যাবে না। তবে মৎস্য অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে প্রতিবছর প্রজনন মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ে মাছের নিষিক্ত ডিম আহরণ করা যাবে, প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংসকারী কোনো প্রকার কার্যকলাপ করা যাবে না, ভূমি ও পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট/পরিবর্তন করতে পারে, এমন কাজ করা যাবে না, মৎস্য ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর কোনো প্রকার কার্যাবলি করা যাবে না, নদীর চারপাশের বসতবাড়ি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পয়ঃপ্রণালি সৃষ্ট বর্জ্য ও তরল বর্জ্য নির্গমন করা যাবে না, নদীর বাঁক কেটে সোজা করা যাবে না, হালদা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ১৭টি খালে প্রজনন মৌসুমে মৎস্য আহরণ করা যাবে না, হালদা নদী এবং এর সংযোগ খালের ওপর নতুন করে কোনো রাবার ড্যাম এবং কংক্রিট ড্যাম নির্মাণ করা যাবে না, পানি ও মৎস্যসহ জলজ প্রাণীর গবেষণার ক্ষেত্রে তদারকি কমিটির অনুমতিক্রমে নদী ব্যবহার করা যাবে, মাছের প্রাক প্রজনন পরিভ্রমণ সচল রাখার স্বার্থে হালদা নদী এবং সংযোগ খালের পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না এবং রুই জাতীয় মাছের প্রাক প্রজনন এবং প্রজনন মৌসুমে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল করতে পারবে না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর