শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২৬

বসুন্ধরা সিটিতে ‘টগি ওয়ার্ল্ড’

আনন্দে মাতোয়ারা শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আনন্দে মাতোয়ারা শিশুরা

করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে গত জানুয়ারিতে খুলে দেওয়া হয়েছে বসুন্ধরা সিটির ‘টগি ওয়ার্ল্ড’। সেই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ছাড়। খোলার পরই জমে উঠেছে অত্যাধুনিক এ থিম পার্ক। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখরিত থাকছে ৩৭ হাজার বর্গফুটের পার্কটি। করোনার কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দী থাকা সন্তানকে এমন আনন্দভুবনে নিয়ে আসতে পেরে খুশি অভিভাবকরাও। গত সোমবার বিকালে টগি ওয়ার্ল্ডে গিয়ে দেখা যায় কেউ নিয়ে এসেছেন নিজের শিশু সন্তানকে, কেউ ভাগ্নে-ভাগ্নি বা ভাইপো-ভাইজিকে। পার্কের         মধ্যে শিশুদের খেলতে দিয়ে কেউ অপেক্ষা করছেন, কেউ আবার গেছেন কেনাকাটা করতে। শিশুদের কেউ চড়ছে নাগরদোলায়, কেউ ঘোড়ার পিঠে, কেউ চালাচ্ছে গাড়ি। কেউ আবার গেমে মজে উঠেছে। পার্কটির অষ্টম ও নবম তলা ঘুরে দেখা যায় শিশুদের ভিড়ে টগি ওয়ার্ল্ড পরিপূর্ণ। শিশুদের সঙ্গে বড়দেরও খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায়। মিরপুর থেকে আট বছরের ভাগ্নেকে নিয়ে টগি ওয়ার্ল্ডে এসেছিলেন তারিক হাসান। ভাগ্নেকে পার্কে ছেড়ে দিয়ে নিজে মজে ওঠেন গেমে। তারিক বলেন, ‘অনেক দিন ভাগ্নের স্কুল বন্ধ। আমারও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। আপা ফোন করে বললেন রাতুলকে (ভাগ্নে) নিয়ে বাইরে কোথাও ঘুরিয়ে আনতে। ভাবলাম এখানে এলেই সবচেয়ে ভালো হবে।’ কথা বলতে বলতে আঙুল উঁচিয়ে দেখালেন রাতুল নাগরদোলা থেকে নেমে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে ঘোড়ার রাইডের দিকে যাচ্ছে। দুই শিশু সন্তান নিয়ে ধানমন্ডি থেকে টগি ওয়ার্ল্ডে আসা ফাতেমা জান্নাত বলেন, ‘দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় বাচ্চারা শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সারা দিন মোবাইলে গেম খেলে। বেশি বকাঝকাও করতে পারি না। কারণ ওদের তো খেলাধুলার সুযোগ দিতে পারছি না। তাই প্রতি সপ্তাহে একদিন সময় করে এখানে নিয়ে আসি। স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় সব জায়গায় তো যাওয়া যায় না।’ টগি ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ জানান, বসুন্ধরা সিটির প্রায় ৩৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি বিশাল ফ্লোর নিয়ে সাজানো হয়েছে টগি ওয়ার্ল্ড। এখানে তিন থেকে আট বছরের বাচ্চাদের জন্য রয়েছে বিশেষ রাইডস। এর বাইরে বড়রাও যুক্ত হতে পারছেন বিভিন্ন গেমিংয়ে। পার্কটিতে নাগরদোলার মতো মিনি ফেরিস হুইল রয়েছে। আছে মিনি টাওয়ার। এ ছাড়া বাম্পার কার, লিটল প্লেনসহ ১৫টি আকর্ষণীয় রাইড, ৪৩টি গেমস এবং কিডস ও ভিআইপি বোলিং। রয়েছে গেম জোন। আছে ৫০ জন শিশু-কিশোরের ধারণক্ষমতার একটি পার্টিরুম। রয়েছে আকর্ষণীয় মাদার রুম। আছে সফট প্লে জোন, যা শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। চার বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের জন্য রয়েছে টডলার প্লে জোন। করোনার কারণে গত বছরের ১৯ মার্চ বন্ধ করে দেওয়া হয় পার্কটি। নয় মাস ১১ দিন পর সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে জানুয়ারিতে আবার খুলে দেওয়া হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে টগি ওয়ার্ল্ডে চলছে বিশেষ ছাড়। প্রবেশমূল্য ছাড়াই ঢোকা যাচ্ছে পার্কে। মঙ্গলবার ছাড়া প্রতিদিন খোলা। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অন্য দিনগুলোয় ৪০০ টাকায় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য উপভোগ করা যাবে যে কোনো রাইড। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনে লাগবে ৫০০ টাকা। প্রতিদিন বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে টগি ওয়ার্ল্ড। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনে খোলা থাকে বেলা ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। টগি ওয়ার্ল্ডের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, ‘স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টি খেয়াল রেখে পার্কে যত্নসহকারে দেখভাল করা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপ সব সময়ই শিশুদের জন্য বিশেষভাবে চিন্তা করে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর