শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০১:০৯

লেখক মুশতাকের মৃত্যু ষড়যন্ত্রের অংশ কি না খতিয়ে দেখা উচিত

-হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক, বেদনাদায়ক। রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো মৃত্যু কাম্য নয়, আওয়ামী লীগও তা সমর্থন করে না। বিশেষ করে কারাগারে একজন ব্যক্তির মৃত্যু কখনো কাম্য নয়।  ‘অনেক সরকারবিরোধী প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকেন’ জানিয়ে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, সুযোগ পেলেই তারা সরকারকে বিব্রত করেন। বিপদে ফেলতে চান। মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনা সেই ধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ কি না এটা খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে                এমন ধরনের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত। এটাকে সরকার কখনই সমর্থন করে না। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরামের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা ও প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি (মুশতাক) যখন কারাগারে থাকবেন তখন তার স্বাস্থ্য বা সবকিছুর দেখভালের দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। কার গাফিলতিতে মুশতাক আহমেদ কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন, এটা সরকারকে বিব্রত করতে কি না- তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট (স্বরাষ্ট্র) মন্ত্রণালয়কেও অনুরোধ জানিয়েছি। একই সঙ্গে আমি অনুরোধ করব, বিভাগীয় তদন্ত করে, কারও গাফিলতির কারণে এই মৃত্যু হয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি ও মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান রেজোয়ানুল হক রাজা, সাবেক সচিব মো. আক্তারুজ্জামান, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আ কা ম সরোয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জজ, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. মো. জাহিদুল হাসান ও কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সভাপতি রবিউল ইসলাম। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গ টেনে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, প্রতিটি আইনের দুটি দিক আছে। আর আইন যারা প্রয়োগ করেন, তাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোন ধারায় কতটুকু কী আছে, তা আইনজীবী ও সাংবাদিকরা ভালো বলতে পারবেন।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, গণমাধ্যমে দেখলাম মুশতাকের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর ছয়বার জামিন আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত তাকে জামিন দেয়নি। এক বছর ধরে তিনি কারাগারে ছিলেন। আদালত সর্বোচ্চ জায়গা। তাদের ওপরে আমাদের কোনো কথা নেই। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা আছে। কিন্তু আমার অনুরোধ থাকবে, মুশতাকের মতো একজন ব্যক্তি শুধুমাত্র একটি লেখার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর ছয়বারেও জামিন দেওয়া হলো না- এই জামিন না পাওয়াটা কতটা যৌক্তিক, বিচারপতিদের এটা ভাবার বিষয়। ভবিষ্যতে যাতে কোনো মানুষ, এইভাবে যেন আর কোনো ঘটনায় পতিত হয়ে সরকারকে বিব্রত না করে।

আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে জাতিসংঘ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা জাতির জন্য গর্বের। যেটার জন্য আমরা দীর্ঘদিন লড়াই করেছি। একসময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো, মিসকিন বা গরিবের রাষ্ট্রও বলা হতো। আজকে সেই বাংলাদেশ আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত। এসব সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষতার জন্য।

এই বিভাগের আরও খবর