বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
মিতু হত্যাকান্ড

কেউ জানে না গায়ত্রী কোথায়

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের কথিত প্রেমিকা গায়ত্রী অমর সিংহের বর্তমান অবস্থান জানে না কেউ। মিতু হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ এ মহিলার বর্তমান অবস্থান চেয়ে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারকে (ইউএনএইচসিআর) চিঠি দিলেও জানা যায়নি সর্বশেষ অবস্থান। তাই সর্বশেষ কোন দেশের উদ্দেশে গায়ত্রী বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন তা জানতে ইমিগ্রেশনকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআইর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘গায়ত্রীর সর্বশেষ অবস্থান নিশ্চিত হওয়া না গেলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আশা করছি ওই আলামতগুলোর মাধ্যমে মামলার জট খুলবে।’ তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘গায়ত্রী কোন দেশের উদ্দেশে বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন কয়েকদিনের মধ্যেই তা জানতে ইমিগ্রেশনকে চিঠি দেওয়া হবে।’

জানা যায়, বাবুল আক্তারের কথিত প্রেমিকা গায়ত্রীর যাবতীয় তথ্য চেয়ে কর্মস্থল ইউএনএইচসিআর-এ চিঠি দেয় পিবিআই। গায়ত্রীর বিষয়ে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় ইউএনএইচসিআর। কিন্তু তার সর্বশেষ অবস্থান জানাতে পারেনি।  তাই গায়ত্রীর সর্বশেষ অবস্থান জানতে ইমিগ্রেশনে চিঠি দিচ্ছে। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে পিবিআই। কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী বাবুল দম্পতির দুই সন্তান মাহির ও তাবাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পিবিআই। আলোচিত মিতু হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে মনে করা হয় ভারতীয় নাগরিক গায়ত্রীকে। তিনি এক সময় ইউএনএইচসিআরের ফিল্ড অফিসার (প্রোটেকশন) হিসেবে কমর্রত ছিলেন কক্সবাজারে। বাবুল আক্তারও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কক্সবাজারে দায়িত্বরত ছিলেন। কাজের সুবাদে বাবুল আক্তার ও গায়ত্রীর পরিচয় হলেও পরে তা পরকীয়ায় রূপ নেয়। ২০১৪ সালে তাদের পরকীয়ার বিষয়টি নজরে আসে। বাবুল আক্তারকে দেওয়া গায়ত্রীর ‘তালিবান’ বইয়ে উঠে এসেছে দুজনের সম্পর্কের কিছু চিত্র। ওই বইয়ে লেখা রয়েছে-২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর গায়ত্রীর সঙ্গে প্রথম দেখা হয় বাবুলের। পরে তাদের দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়। ৮ অক্টোবর দুজনে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হাঁটেন। বাবুল-গায়ত্রী পরকীয়ার জের ধরে ফাটল ধরে বাবুল দম্পতির সম্পর্কে। পরকীয়ার জের ধরেই মিতুকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করছেন মিতুর পরিবার। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন নগরীর জিইসির মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে খুন হন সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাঁচ বছর পর পিবিআইর তদন্তে এ খুনের সঙ্গে বাবুল আক্তারের সংশ্লিষ্টতা পায়। পরে পুরনো মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়। এতে আসামি করা হয় বাবুল আক্তারসহ আটজনকে। ওই মামলায় বাবুল আক্তার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।