সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

দখল আর ডুবোচরের কারণে মরছে নদী : হুমকিতে পরিবেশ-প্রকৃতি

কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি পরিবেশবাদীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বরিশালের পরিবেশ-প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্র্য বাঁচিয়ে রেখেছে নদ-নদীগুলো। প্রবহমান নদী থেকে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছে লাখ লাখ মানুষ। কিন্তু প্রতিনিয়ত অবৈধ দখল ও দূষণের কারণে নদীগুলো সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে পানি। কমে যাচ্ছে পানির ভিতরে অক্সিজেনের মাত্রা। ওপরে থইথই পানি দেখালেও তলদেশে ডুবোচর পড়ে প্রায় প্রতিটি নদীর নাব্যতা কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। এতে বড় বড় নৌযান চালাতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। পরিবেশ-প্রকৃতি এবং জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় নদী বাঁচাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নৌযান মাস্টার এবং পরিবেশবিদরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে- বরিশাল বিভাগে অর্ধ শতাধিক নদ-নদী রয়েছে। গত ২ থেকে ৩ দশকের মধ্যে সন্ধ্যা, সুগন্ধা, আড়িয়ালখাঁ, ধানসিঁড়িসহ অনেক নদ-নদী এবং শাখা নদী প্রায় মরে গেছে। অন্যান্য নদীর বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে সন্ধ্যা নদী দিয়ে নৌযান চলাচল করতে পারছে না। ডুবোচরের কারণে অন্যান্য নদ-নদী দিয়েও বড় বড় নৌযান ঝুঁকি নিয়ে চালাতে হয় বলে জানিয়েছেন বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের প্রথম শ্রেণির নৌযান মাস্টার মো. শামীম আহমেদ। নৌ-চলাচল অব্যাহত রাখতে নদীর নাব্যতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরিশালের সমন্বয়কারী মো. রফিকুল আলম বলেন, শুধু নাব্যতা সংকট নয়, প্রতিনিয়ত অবৈধ দখল এবং দূষণকারীরা গলা টিপে হত্যা করছে পরিবেশ-প্রকৃতির বন্ধু নদীগুলো। পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলায় সেগুলো গিয়ে ঠেকছে নদীর তলদেশে। অবৈধ দখলের কারণে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে নদীগুলো। ওষুধ কোম্পানির কেমিক্যাল বর্জ্য ইটিপির মাধ্যমে পরিশোধন না করায় ড্রেন হয়ে সেগুলো সরাসরি পড়ছে নদীতে। এ কারণে নদীর পানিতে কমেছে অক্সিজেনের মাত্রা। যা পরিবেশ-প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, দূষণ রোধ এবং নাব্যতা বাড়ানোর জন্য অবিলম্বে সরকারি কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন পরিবেশবাদীরা।

সর্বশেষ খবর