বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

উন্নয়নে বদলেছে খুলনা জেলা পরিষদ

♦ রাজস্ব আদায়ে চমক, সক্ষমতা বাড়ছে প্রকল্প বাস্তবায়নে ♦ গত অর্থবছরে রাজস্ব আয় ছিল ৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এবার হয়েছে ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি ফিরেছে খুলনা জেলা পরিষদে। সেই সঙ্গে সরকারি অনুদানের বাইরে রাজস্ব আদায়েও চমক তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব আয় ছিল মাত্র ৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সেখানে ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছে ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব খাত থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে প্রায় ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৯০টি প্রকল্প ইতিমধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, বেদখল হওয়া জমি- জলমহল উদ্ধার ও খেয়াঘাট দখলমুক্ত করে নতুন ইজারার মাধ্যমে ধাপে ধাপে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এদিকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও উদ্বৃত্ত রাজস্ব তহবিলের ৫ কোটি টাকা ব্যাংক এফডিআর করতে সক্ষম হয়েছে জেলা পরিষদ। কর্মকর্তারা জানান, এফডিআর থেকে প্রাপ্ত অর্থ সংকটকালীন সময়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জানা যায়, জেলা পরিষদের আওতায় বিভাগীয় শহর খুলনায় বর্তমানে এক হাজার আসনের ‘বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল’ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর ডাকবাংলো এলাকায় ২০ তলা আধুনিক ট্রেড সেন্টার ও ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পাওয়ার হাউস মোড়ে আধুনিক শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমান বলেন, উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করায় মানুষের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি দৃশ্যমান অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভুয়া প্রকল্পে বরাদ্দ, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সমালোচিত হয় জেলা পরিষদ। প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান সহকারী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিচালনা পরিষদের নজরদারি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দৃঢ়তায় আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সর্বশেষ খবর