শিরোনাম
বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

সদরে জমবে দুই বাদশার লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহী-২ (সদর) আসনের টানা তিনবারের এমপি ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি এবারও ১৪-দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। তবে তাঁর পক্ষে মাঠে নামেননি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। এবার ফজলে হোসেন বাদশার প্রতিদ্বন্দ্বী মহানগরী আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী। কাঁচি প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা শফিকুর রহমান বাদশাকে অভিনন্দন জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের নির্বাচনের আহ্বান গ্রহণ করছে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততা দেখে বোঝা যায় তাদের সমর্থন কোন দিকে আছে। পরিবেশ স্বাভাবিক। এখানে কোনোরকম জবরদস্তিমূলক কিছু নেই। নির্বাচন আমাদের অনুকূলেই আছে। মানুষ চায়, এ সরকার আবার ফিরে আসুক। তাই তারা নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবে।’ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘মাঠের অবস্থা এবার আগের চেয়েও ভালো। আমি মনে করি এ সময়ের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে। আর গত ১৫ বছরে সরকারের যে উন্নতি এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড, তা মানুষ নিজের চোখে দেখেছে। ফলে মানুষ মনে করে এ সরকারের পুনরাবৃত্তি দরকার।’

ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী-২ আসনে ১৫ বছর ধরে এমপি। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও এর প্রভাব ভোটে পড়বে বলে তিনি মনে করেন না। বলেন, ‘বিএনপি সাধারণ মানুষকে কেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না। দলটির নেতা-কর্মীরা হয়তো না-ও যেতে পারেন; কিন্তু সাধারণ মানুষ, যাদের ওপর বিএনপির কোনো প্রভাব নেই, তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে যাবে।’ নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদশার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

আসনটিতে মহানগরী আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বদশা মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ে বাতিল হয়ে গিয়েছিলেন। উচ্চ আদালতের রায়ে প্রার্থিতা ফিরে পান। তিনি কাঁচি প্রতীক বেছে নিয়েছেন। প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছেন শফিকুর রহমান বাদশা। সেখানে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, রাজশাহীর মানুষ চেয়েছে তিনি যেন নির্বাচন করেন। তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে মানুষের সেই আকাক্সক্ষার জয় হয়েছে। ভোটে জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী শফিকুর রহমান বাদশা বলেন, ‘গত ১৫ বছর ১৪-দলীয় জোটের প্রার্থী রাজশাহী সদর আসনে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। উন্নয়নের ক্ষেত্রে মেয়রের সঙ্গে স্থানীয় এমপির কাজের সমন্বয় থাকা দরকার ছিল। কিন্তু তা-ও ছিল না।’

তিনি বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনের সময় স্লোগান ছিল ‘উন্নয়ন হয়েছে দৃশ্যমান, এবার হবে কর্মসংস্থান’। মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের এ স্লোগান নিয়েই নির্বাচনে নেমেছেন বলে জানান শফিকুর রহমান বাদশা। নগর আওয়ামী লীগের ভোট তার ঘরেই আসবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ প্রকাশ করেন।

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর