শিরোনাম
শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

চবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মানববন্ধন, তদন্ত কমিটি

চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে একই বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

গতকাল দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য; ‘রাইস ইউর ভয়েস এগেইনস্ট সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট’, ‘যৌন নিপীড়কের স্থায়ী বহিষ্কার চাই’, ‘অস্থায়ী শাস্তি আর নয়, স্থায়ী সমাধান চাই’, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হেনস্তাকারী কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার বোন লাঞ্ছিত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি লেখা পোস্টার দেখা যায়।  ভুক্তভোগীর সহপাঠী মো. সাজিদ বলেন, আমরা চাই এই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হোক। আমাদের সহপাঠীর সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ইশরাত বলেন, এমন অপরাধ আরও আগে থেকে হয়ে আসছে।

কেউ আত্মসম্মানের ভয়ে সাহস করে কোনো অভিযোগ করেনি। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটা শাস্তির আয়োজন করবে তার নজির সারা জীবন থাকবে।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে। আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শিতু বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক থিসিস ল্যাবে এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তিনি আগের সিনিয়র আপুদেরও এভাবে হেনস্তার চেষ্টা করেছেন। এই শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সজীব ঘোষ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন সেলে বিষয়টি তোলা হবে। এর আগে গতকাল উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী জানান, ‘থিসিস চলাকালীন আমার সুপারভাইজার কর্তৃক যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হই। থিসিস শুরুর পর থেকে তিনি আমার সঙ্গে বিভিন্ন যৌন হয়রানিমূলক; যেমন-জোর করে হাত চেপে ধরা, শরীরের বিভিন্ন অংশে অতর্কিত ও জোরপূর্বক স্পর্শ করা। কেমিক্যাল আনাসহ বিভিন্ন বাহানায় তিনি আমাকে তার রুমে ডেকে জোরপূর্বক জাপটে ধরতেন। পরে চবি প্রশাসন যৌন হয়রানিবিরোধী সেলের প্রধান অধ্যাপক ড. জারিন আক্তারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেলের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত এবং ভুক্তভোগী দুজনকেই আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে। প্রক্টর নূরুল আজিম শিকদার বলেন, গতকাল একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজকে যৌন নির্যাতন সেল কমিটির সভা আছে। শিক্ষার্থীদের বলব ধৈর্য ধরতে। কেউ অন্যায় করলে ছাড় দেওয়া হবে না।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর