শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ মে, ২০২০ ১০:২৮

করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে ডিজিটাল হেল্থকেয়ার সলিউশানস

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে ডিজিটাল হেল্থকেয়ার সলিউশানস

করোনাভাইরাসের মহামারী রোধে সারা দেশের সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কর্মীদের সাথে একই সংহতি নিয়ে পাশে রয়েছে ডিজিটাল হেল্থকেয়ার সলিউশানস। কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার্স (সিএইচডব্লিউ), সারা দেশের কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করছেন। এমনকি এই মহামারীর ভেতর তাদের গর্ভবতী মায়েদের সেবা, শিশুর জন্ম এবং শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য ঘরের বাইরে যেতে হচ্ছে। 

তারা তাদের নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের সমাজ ও সম্প্রদায়ের কল্যাণে কাজ করছে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে প্রয়োজনীয় পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট যেমন ফেস মাস্ক, হ্যাজারডাস ম্যাটেরিয়াল স্যুট ছাড়া। বেশিরভাগ মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মীরাই বিভিন্ন এনজিও এবং বেসরকারি সংস্থার হয়ে কাজ করছেন, যার ফলে তারা সরকারী সকল সুবিধার আওয়তায় নেই এবং এই কারণে সরকারকর্তৃক ডাক্তার এবং সেবিকাদের দেওয়া প্যাকেগুলোর সুফল পাচ্ছেন না।

এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, ডিজিটাল হেল্থকেয়ার সলিউশানস, ফ্রি করোনা ইন্স্যুরেন্স এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে যার মাধ্যমে কোন স্বাস্থ্যকর্মী যদি করোনায় আক্রান্ত হয় তবে তার চিকিৎসার জন্য অর্থ স্বাভাবিকের তুলনায় কম ব্যয় করতে হবে। এই ইন্স্যুরেন্স-এর আওয়তায় একজন হেলথ হিরো যদি কোভিড-১৯ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ হয় তবে আইসোলেশন-এ থাকার জন্য ২০০০ টাকা, হাসপাতালে থাকতে হলে ৫০০০ টাকা এবং লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর জন্যে ২০০০০ টাকা দাবি করতে পারবেন। 

ইতিমধ্যে Care (SHE প্রজেক্ট-এর অন্তর্গত), Shakti Foundation, Swisscontact, Lighter Bangladesh এবং আরও তিনটি সংস্থার ৫০০০ এর বেশি মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীকে করোনা ইন্স্যুরেন্স-এর আওতায় আনা হয়েছে। এই হেলথ হিরোরা মূলত গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য, নারীর স্বাস্থ্য এবং কমিউনিটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবায় নিয়জিত রয়েছেন। 

ডিজিটাল হেল্থকেয়ার সলিউশানস এর বিশ্বাস যদি এই মহামারীর সময় মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মীদের যথাযত সহায়তা প্রদান করা হয় তবে গ্রামের মানুষের জন্য আরও ভাল প্রাথমিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত হবে, তাছাড়া স্বাস্থ্য সেবা, স্বাস্থ্য সুবিধা এবং কমিউনিটির মধ্যে আরও দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপিত হবে। এছাড়াও হেলথ হিরোদের ডিজিটাল হেল্থকেয়ার সলিউশানস এর "করোনা কেয়ার" সার্ভিসটি ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া হয়েছে যার মাধ্যমে তারা করোনার উপসর্গ চেক এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসকের সাথে চ্যাট করতে পারবেন। 

কেয়ার বাংলাদেশের হেলথ সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং হেলথ ইউনিটের কো-অরডিনেটর ডাঃ মোঃ আহসানুল ইসলাম বলেন, "করোনা ইন্স্যুরেন্স, ডিজিটাল হেল্থকেয়ার সলিউশানস এর একটি সময়োপযোগী এবং অনন্য অফার। কেয়ার বাংলাদেশের স্বেচ্ছা সেবক, ফ্রন্ট লাইনের স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যে অফারটি বেশ সুবিধাজনক। যদি তারা করোনায় আক্রান্ত হয় তবে তারা এর মাধ্যমে সহায়তা পাবে। আশা করি ডিজিটাল হেল্থকেয়ার সলিউশানস ভবিষ্যতে আরও এমন নতুন নতুন সেবা নিয়ে আসবে যার মাধ্যে আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে উঠে জীবন রক্ষাকারী সেবা গ্রহনের দ্বার উন্মোচিত হবে” 

কেয়ার বাংলাদেশের কমিউনিটি অর্গানাইজার সুলতানা আক্তার বলেন, "চমৎকার উদ্যোগ। আসা করি বর্তমান পরিস্থিতিতে এই কভারেজটি আমাদের উপকারে আসবে। ডিজিটাল হেল্থকেয়ার সলিউশানসকে তাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্স এর জন্যে ধন্যবাদ। করোনা ইন্স্যুরেন্স আমার উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করবে, ডিজিটাল ডাক্তার এবং আর্থিক সহায়তার সুযোগ আমাকে রোগী এবং মায়েদের সেবায় আরও বহুদূর এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস যোগাবে।"

এছাড়াও ডিজিটাল হেল্থকেয়ার সলিউশানস আরো ১৫০০০ ফ্রি করোনা ইন্স্যুরেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে এম্বুলেন্স চালক, প্রোজেক্ট কর্মী (কেয়ার বাংলাদেশ), মাঠকর্মী (কোস্ট ট্রাস্ট) ইত্যাদি পেশায় নিয়জিত থেকে যারা ফ্রন্টলাইনে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের জন্যে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল হেল্থকেয়ার সলিউশানস যারা অন্যদের সুরক্ষিত রাখতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের ও সহায়তা প্রদান করবে।

ফ্রি করোনা ইন্স্যুরেন্স ছাড়াও, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, সুনামগঞ্জ এর সিভিল সার্জনদের পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও পটুয়াখালীর কমিউনিটি প্যারামেডিক এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের মধ্যে অতিরিক্ত ১০০টি পিপিই বিতরণ করা হয়েছে। এই পিপিই বিতরণ কার্যক্রম ডিজিটাল হেল্থকেয়ার সলিউশানস এবং Swisscontact-এর মধ্যে অংশীদারিত্বের উদ্যোগের একটি অংশ ছিল।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য