শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ২৩:৩৬

ডাক্তার সংকটে ‘সঙ্কটাপন্ন’ শেরপুর সদর হাসপাতাল

শেরপুর প্রতিনিধি

ডাক্তার সংকটে ‘সঙ্কটাপন্ন’ শেরপুর সদর হাসপাতাল

শেরপুর সদর হাসাপাতালে বহির্বিভাগ, অন্তঃবিভাগ সব জাগয়াতেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে চিকিৎসক সংকট। বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখানো যেন ‘যুদ্ধজয়’। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিয়ে ডাক্তার পর্যন্ত যেতে একজন রোগীর সময় লাগে ৩-৪ ঘণ্টা। রোগীর ভিড়ে ডাক্তার কোনো রকম ব্যবস্থাপত্র দিয়েই দায়িত্ব সারেন। হাসপাতালটির এ চিত্র প্রতিদিনকার। জানা যায়, সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২/৩ জনের বেশি ডাক্তার দেওয়ার সামর্থ্য নেই কর্তৃপক্ষের। প্রতিজন ডাক্তারকে দিনে দুই থেকে আড়াইশ রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিতে হয়। একদিকে ডাক্তার সংকট অন্যদিকে রোগীর ভারে নিজেরই সঙ্কটাপন্ন অবস্থা জেলার ১৫ লাখ মানুষের এই স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রটির। তাছাড়া রোগী বেশি শয্যা কম— এ নিয়ে চলছে অন্তঃবিভাগ। এখানে শয্যা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

অভিযোগ আছে, পাঁচ বছর আগে হাসপাতালটি আড়াইশ শয্যার স্বীকৃতি পেলেও আজ পর্যন্ত ১০০ শয্যার সুবিধাই পায়নি। সরকারি হিসাবে ১০০ শয্যার হাসপাতালে ৩৬ জন ডাক্তার প্রয়োজন। সেখানে শেরপুর সদর হাসপাতালে ডাক্তার আছেন মাত্র ১৬ জন। এরমধ্যে তিনজন আছেন বদলির তদবীরে। সূত্র জানায়, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিক, ইএনটিসহ ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। এ কারণে সামান্য সমস্যায় ভুক্তভোগীদের ময়মনসিংহ মেডিকেল বা ক্লিনিকের শরণাপন্ন হতে হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাসে বহির্বিভাগে গড়ে প্রতিদিন ৬২৩ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। টিকিট আর ডাক্তার এই দুই দফায় দীর্ঘ লাইন পার হতে সময় ও ধৈর্যের অভাবে অনেকে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। বহির্বিভাগে অন্তত দিনে সাতজন ডাক্তার দিতে পারলে এ ভোগান্তি কাটবে বলে দাবি ভোক্তভোগীদের। অন্যদিকে অন্তঃবিভাগে রয়েছে ভয়াবহ শয্যা সংকট। ভর্তি রোগীরা শয্যা না পেয়ে মেঝে, বারান্দা, টয়লেটের পাশে কোনোভাবে শুয়ে-বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১৪ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৫২ জন ভর্তি থাকে। সঙ্গে শিশুর মায়েরা থাকায় সেখানে অবস্থান করে কমপক্ষে ১০৪ জন। রোগী আর স্বজনের ভারে গাইনি ওয়ার্ডের অবস্থাও নাজুক। জেলা সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজাউল করিম জানান, প্রতিমাসে ডাক্তারের চাহিদাপত্র উপরে জানানো হচ্ছে। আর হাসাপাতালের নির্মাণাধীন ভবনটি চালু হলেই শয্যা সংকট কেটে যাবে।


আপনার মন্তব্য