শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫৫

বিপাকে হাজারো আখ চাষী

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ নাটোর সুগার মিল

নাটোর প্রতিনিধি

বিপাকে হাজারো আখ চাষী

নাটোর সুগার মিলের বয়েলিং সেকশনের চারটি ট্যাংক ধসে পড়ে গত রবিবার। এ কারণে পরদিন থেকে মিলে উৎপাদন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কৃর্তপক্ষ। উৎপাদন শুরুর মাত্র ১০ দিনের মাথায় চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নাটোর ও নলডাঙ্গা উপজেলার কয়েক হাজার আখচাষী। তাদের শত শত মণ কাটা আখ এখন কি করবেন এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কল চালু থাকা অবস্থায় যে আখ ক্রয় কেন্দ্রে সরবারহ করেছেন তার টাকা এখনও হাতে পায়নি চাষীরা। এতে চিন্তা আরও বেড়ে গেছে। প্রায় ৫৬ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা নিয়ে গত ১৬ নভেম্বর ২০১৮-১৯ মৌসুমে আখ মাড়াই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সরেজমিনে গতকাল বুড়িরভাগ উচ্চ বিদ্যালয়মাঠে অবস্থিত আখ ক্রয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মণ আখ মাঠে পড়ে আছে। চাষীরা আখ ক্রয় কেন্দ্রে ভিড় করছেন। বুড়িরভাগ গ্রামের জুয়েল আলী জানান, তিনি এবার ৪১ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে ৪০ গাড়ি আখ চিনিকলের ক্রয় কেন্দ্রে দিয়েছেন। কয়েকশ মণ আখ জমিতে কাটা রয়েছে। শাখাড়ীপাড়ার আখ চাষী তছির হাজি জানান, তার চার বিঘা জমির আখ নিয়ে এখন কি করবেন তা জানতে চিনিকলের আখ ক্রয় কেন্দ্রে এসেছেন। একই অভিযোগ করেন ক্রয়কেন্দ্রে আসা আরও কয়েকজন আখচাষী। নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, এ উপজেলায় এবার এক হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। চিনিকলের বুড়িরভাগ আখ ক্রয় কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, চাষীদের জমিতে যে সব আখ কাটা আছে শুধু সে সব আখ কেনার সিন্ধান্ত হয়েছে। এ সব আখ রাজশাহী সুগার মিলে পাঠানো হবে। নাটোর সুগার মিলের মহাব্যবস্থাপক মধাব চন্দ্র বলেন, ‘গত রবিবার চিনিকলের সিরাপ ট্যাংক ধসে পড়ায় সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ চিনিকল চালু হবে তা সুনিদিষ্ট করা বলা যাচ্ছে না।’ উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ মাড়াই মৌসুমে এক লাখ ৫৮ হাজার ১১৭ টন আখ মাড়াই করে ১২ হাজার ২২৫ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে নাটোর সুগার মিল।


আপনার মন্তব্য