শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:২০

ইরি চাষ অনিশ্চিত দুুশ্চিন্তায় কৃষক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ইরি চাষ অনিশ্চিত দুুশ্চিন্তায় কৃষক
ভরাট করা হয়েছে কুলিং রিজার্ভার হিসেবে ব্যবহৃত পুকুর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল ও নবীনগর উপজেলার ৩৪ হাজারের বেশি কৃষক চিন্তিত সেচের পানি পাওয়া নিয়ে। এসব উপজেলার ২২ ইউনিয়নের ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ-সুবিধা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পানির অভাবে এ বিপুল পরিমাণ জমি পতিত পড়ে থাকার শঙ্কা জেগেছে। সেচের জন্য ব্যবহৃত পুকুর ও ক্যানেল ভরাটের উদ্যোগ নেওয়ায় দেখা দিয়েছে এ অনিশ্চয়তা। ইতিমধ্যে বিএডিসির কুলিং রিজার্ভার হিসেবে ব্যবহৃত পুকুর ভরাট করে ফেলা হয়েছে। দুই সপ্তাহ পর সেচের জন্য পানি সরবরাহের সময় নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু কুলিং রিজার্ভার হিসেবে ব্যবহৃত পুকুর এখন বালুর মাঠ। বিএডিসি সূত্র জানায়, আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কুলিং সিস্টেমের জন্য মেঘনা নদী থেকে তোলা পানি ব্যবহারের পর তা পুনরায় নদীতে ফেলা হতো। ১৯৭৫ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বর্জ্য পানি সেচকাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেন স্থানীয় দুই ব্যক্তি। এতে এলাকার জমিতে ইরি চাষে সাফল্য আসে। ১৯৭৮-৭৯ সালে সরকার বিএডিসির মাধ্যমে এই সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করে। এ জন্য বিভিন্ন সেচ অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়াও বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত গরম পানি সরাসরি জমিতে না দিয়ে কুলিং রিজার্ভারে রেখে সরবরাহ করা হয়। প্রকল্পের শুরু থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একটি পুকুর কুলিং রিজার্ভার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত জুনে হঠাৎ পুকুরটি ভরাট করতে শুরু করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এরপরই বিষয়টি বিএডিসির কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসককে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কয়েকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে নিষেধ করলেও ভরাট কাজ অব্যাহত রাখে তারা। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাশিম জানান, পুকুরটি ভরাট করা হয়ে গেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকার জমি মালিক ও কৃষক। সেচ প্রকল্পটি বন্ধ হলে তাদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া খাবার পানির সংকটও দেখা দেবে বলে জানান এলাকাবসী। আশুগঞ্জ-পলাশ এগ্রো ইরিগেশন প্রকল্প পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলী ওবায়েদ হোসেন বলেন, কুলিং রিজার্ভার না থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে গরম পানি জমিতে দিলে উৎপাদন ভালো হবে না। ইউএনও নাজিমুল হায়দার জানান, এখন পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ। পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে বালু সরিয়ে নেবেন বলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর