শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০৬

ভরাট হয়ে গেছে তলদেশ বন্ধ নৌ-চলাচল

রাশেদ খান, মাগুরা

ভরাট হয়ে গেছে তলদেশ বন্ধ নৌ-চলাচল
মাগুরায় নদী খননের নামে দুই পাশে মাটি ভরাট করে সরু খালে পরিণত করা হয়েছে -বাংলাদেশ প্রতিদিন

মাগুরা শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা নদীর প্রায় ৬০ ভাগ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে এ নদীতে সব ধরনের নৌ-চলাচল। প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীর ১২ কিলোমিটারে নাব্যতা ফেরাতে গত বছর ৪২ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সেই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। উল্টো অধিকাংশ জায়গায় নদীগর্ভের মাটি ও বালি কেটে নদীর মাঝখানে স্তূপ করায় নদী দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা ওই কাজের ৭০ ভাগ বিল তুলে নিয়ে গেছে। সরেজমিন দেখা গেছে, নবগঙ্গার পশ্চিম ও পূর্ব অংশে ২৫-৩০ কিলোমিটার এলাকা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। মহম্মদপুরের বিনোদপুর ব্রিজ এলাকা থেকে নড়াইলের চিত্রা পর্যন্ত অংশে কিছুটা নাব্য আছে। অন্যদিকে বিনোদপুরের পূর্ব দিকে মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকায় কুমার নদের সংযোগস্থল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার পুরোটাই ভরাট হয়ে গেছে। এই অংশের মধ্যে পারনান্দুয়ালী থেকে সদর উপজেলার আলোকদিয়া পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকায় নাব্যতা ফেরানোর জন্য গত বছর পাউবো ৪২ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। নি¤œমানের খনন কাজের কারণে এই প্রকল্প তেমন কোনো কাজে আসেনি। দু-এক জায়গায় পানির গভীরতা ও প্রশস্ততা কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু তা নৌ-চলাচল কিংবা নদীর ব্যবহারিক অন্যান্য কার্যকারিতায় ভূমিকা রাখতে পারেনি। এ ছাড়া নদীর দুই পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বসতবাড়িসহ নানা অবকাঠামো। নদীপাড়ের বাসিন্দা উজ্জ্বল হোসেন জানান, ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ কিলোমিটার নদী খনন প্রকল্পে নামমাত্র ড্রেজিং করে নদীটিকে সরু খালে পরিণত করা হয়েছে। এতে প্রভাবশালীদের নদী দখলে আরও সুবিধা হয়েছে। নবগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ বারিক আনজাম বারকি জানান, দীর্ঘদিন এই নদীটি সংস্কার না করায় পলি পড়ে নব্যতা হারিয়েছে। অনেকে নদীর জমি দখল করে ইমারত গড়েছেন। আবার শহরের ড্রেনগুলোর মুখ নদীতে দেওয়ায় এর পানি হয়ে পড়েছে ব্যবহারের অনুপোযোগী। আন্দোলন কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণসহ বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে স্থানীয়দের সচেতন করার চেষ্টা করেছি। প্রশাসনিক পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু অগ্রগতি হয়নি। মাগুরা পাউবোর নির্বাহী পরিচালক সরোয়ার জাহান সুজন জানান, নদীটি ডিজাইন মতোই কাটা হয়েছে। ঠিকাদারি কাজের মেজারমেন্ট করে ৬৩ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। চেষ্টা করছি সম্পূর্ণ অংশ খননের পাশাপাশি দখলদারদের উচ্ছেদ করার।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর