শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:২৩

সেচ ক্যানেল ভেঙে পানির নিচে ১৫০ হেক্টর জমির ফসল

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

সেচ ক্যানেল ভেঙে পানির নিচে  ১৫০ হেক্টর জমির ফসল
তিস্তা ব্যারাজের সেচ ক্যানেল ভেঙে যায় গতকাল। ছবিটি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের অনন্তপুর এলাকা থেকে তোলা -বাংলাদেশ প্রতিদিন

রংপুরের তারাগঞ্জে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ক্যানেলের ৫০ ফুটের বেশি ভেঙে গিয়ে  ৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে ওইসব গ্রামের রাস্তাঘাটসহ প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির ফসল। গতকাল সকালে রংপুরের তারাগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে। ক্যানেল ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হবার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে আটটার দিকে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা এলাকায় তিস্তা ব্যারাজ  সেচ ক্যানেলের পাড় ভেঙে যায়। এতে উপজেলার অনন্তপুর, কাজিপাড়া, মিস্ত্রীপাড়া, দক্ষিণপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, হাজিপাড়া, বড়বাড়ি, শেরপুর, আখিরারপাড়সহ ৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলেন সেচ ক্যানেলের পাড়ের নিচের দিকে মাটি নরম হওয়ায় পাড়  ভেঙে যাবার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ওই পাড়ের পাশে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছিল। তাদের ধারণা দীর্ঘদিন সেচ ক্যানেল সংস্কার না করায় মাটি নরম ও গর্ত থেকেই এই সেচ ক্যানেলের পাড় ভেঙে গেছে। এতে অন্তত আট গ্রামের প্রায় ১৫০ হেক্টর আবাদি জমি, দুটি ইটভাটা, মৎস্য খামার ও রাস্তাঘাট সবকিছু এখন পানিতে তলিয়ে আছে। কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফজালুল হক সরকার জানান, পাড় ভেঙে যাবার পর থেকে পানির তীব্র স্রোতে গ্রামের গ্রামের পর প্লাবিত হচ্ছে। তার নিজের বাড়িসহ গ্রামের অসংখ্য ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। এতে কমপক্ষে ৯টি গ্রামের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অশোক কুমার বলেন, তিস্তা সেচ ক্যানেল পাড়ের প্রায় ৫০ ফুটের মতো অংশ ভেঙে গেছে। এতে নিচু এলাকার জমিসহ অন্তত হেক্টর কৃষি জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে।  দু’একদিন পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বোঝা যাবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, কুর্শা ইউনিয়নের অনন্তপুর এলাকায় সেচ ক্যানেলের একাংশ ভেঙে কয়েকটি পাড়া প্লাবিত হয়েছে। এতে আবাদি জমিসহ নিচু এলাকায় পানি ঢোকায় কৃষক ও মৎস্য চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড সেচ প্রকল্পের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুস শহীদ বিকালে বলেন, ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামতের চেষ্টা চলছে। এলাকায় ক্যানেলটি খুবই মজবুত ছিল। বিভিন্ন এলাকায় মানুষ ক্যানেল ফুটো করে জমিতে চুরি করে পানি নেয়। সে কারণেই হোক আর ইঁদুরের গর্তের কারণেই হোক ক্যানেলটি ভেঙে গেছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর