শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:০৫

১৭৯ কিলোমিটার রেলপথ বেহাল, ঝুঁকিপূর্ণ ১৩ সেতু

একের পর এক ট্রেন লাইনচ্যুত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

১৭৯ কিলোমিটার রেলপথ বেহাল, ঝুঁকিপূর্ণ ১৩ সেতু
কুলাউড়ায় গত শনিবার লাইনচ্যুত হয় তেলবাহী ট্রেনের বগি -বাংলাদেশ প্রতিদিন

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলীয় জোনের সিলেট-আখাউড়া সেকশনে একের পর এক ট্রেন লাইনচ্যুতের ঘটনায় বেরিয়ে আসছে এ রুটের বেহাল দশার চিত্র। চলতি বছরই এ রুটে সংঘটিত হয়েছে চারটি লাইনচ্যুতের ঘটনা। সব শেষ ১০ দিনের মাথায় গত শনিবার আবারও তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এতে চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ। রেললাইনে স্লিপারের লুজ কানেকশনের কারণে এসব দুর্ঘটনা বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। অভিযোগ আছে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলারও। ফলে সিলেট-আখাউড়া রেলপথে কমছে যাত্রী। কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা রেলস্টেশনের অদূরে হোসেনপুরে গত শনিবার মালবাহী ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। বরমচাল স্টেশন মাস্টার শফিকুল ইসলাম কাজল জানান, সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনটি বেলা ২টার দিকে ভাটেরা স্টেশন অতিক্রমের পর হোসেনপুরে একটি বগির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। চার ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টায় সারা দেশের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। জানা যায়, রেলওয়ের বিধান অনুযায়ী মোটর-ট্রলিতে করে লাইন পরীক্ষার কথা। কিন্তু কুলাউড়া স্টেশন থেকে সিলেট বা শ্রীমঙ্গল স্টেশন অভিমুখে এ ধরনের কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। ফলে লোহা ব্যবসায়ীরা রেললাইনে স্পাইক খোলার বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে টাই প্লাট স্পাই, ক্লিপস ও ফিস প্লেট খুলে নিয়ে যায়। খাঁটি লোহার এ সরঞ্জামের ভালো দাম থাকায় প্রতিনিয়ত তা চুরি হচ্ছে। এদিকে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ১৭৯ কিলোমিটারের মধ্যে ১৩টি সেতু পরিণত হয়েছে ‘মরণফাঁদে’। যদিও সচেতন মহলের মতে এ সেকশনের সব সেতুই ঝুঁকিপূর্ণ। রেলওয়ের তালিকায় থাকা এ ১৩টি সেতুর ওপর ট্রেন পারাপারে ‘ডেড স্টপ’ (সেতুর আগে ট্রেন থেমে যাবে, এরপর ৫ কিলোমিটার গতিতে চলা শুরু করবে) ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেট থেকে মোগলাবাজার স্টেশন পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে আটটি এবং মোগলাবাজার থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ১৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে পাঁচটি সেতু ‘ডেড স্টপ’-এর আওতাধীন। কুলাউড়া স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, এ রেলপথের যন্ত্রাংশ পুরনো হওয়ায় ট্রেন চলার সময় ক্লিপ-হুক স্লিপারও রেললাইন থেকে খুলে উড়ে যায়। কাঠের স্লিপার পড়ে যাওয়ায় ট্রেনের চাপ সহ্য করতে না পেরে বেঁকে যায় অনেক স্লিপার। এতে লাইন দুর্বল হয়ে পড়ে।

এই বিভাগের আরও খবর