শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২৫

চরাঞ্চলে পিঁয়াজের আবাদ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

চরাঞ্চলে পিঁয়াজের আবাদ
Google News

গত বছরে পিঁয়াজের চাহিদা অনুযায়ী বাজারে প্রচুর দাম বিরাজ করে। কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০টাকা পর্যন্ত পিঁয়াজের দাম হাঁকায় ব্যবসায়ীরা। এতে সারা দেশে পিঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। এই দামের কমতি কুড়িগ্রাম জেলাতেও কম ছিল না। পিঁয়াজের ব্যাপক চাহিদা ও বাজার মূল্য বেশি থাকার কারণে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে এ বছর অনেক জমিতে পিঁয়াজ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন এখানকার কৃষকরা। এ নদের চরগুলোতে বিগত বছরের চেয়ে এবার পিঁয়াজের বাম্পার ফলন হওয়ার প্রত্যাশায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কম খরচে অধিক ফলন ও ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা এ অঞ্চলের কৃষকদের। প্রতি একরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে জানান কৃষকরা। চরাঞ্চলের মানুষের আয়ের উৎস কৃষিজমিতে চাষাবাদ ও মাছ ধরা। উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের চরশৌলমারী ও যাদুরচর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাড়ে গ্রামবাসী নদী ভাঙনের ফলে ফসলি জমি ও ভিটা মাটি হারিয়ে বালুরচরে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। গত বছর দাম বেশি হওয়ায় লাভের আশায় বেঁচে থাকার লড়াইয়ে চরাঞ্চলের কৃষকরা অন্য ফসল বাদ দিয়ে পিঁয়াজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পিঁয়াজের বাম্পার ফলন হবে বলে জানান অনেকেই। রৌমারী উপজেলার  খেদাইমারী গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, আমি গত বছর অল্প জমিতে পিঁয়াজ চাষ করেছিলাম। এবার বেশি চাহিদা থাকায় ২ একর জমিতে পিঁয়াজ চাষ করেছি। আমার একর প্রতি খরচ হয়েছে ১২  থেকে ১৫হাজার টাকা। ১ একর জমিতে ফলন হবে ৮০-৯০ মণ। বাজারে এক মণ পিঁয়াজের দাম ১৬০০ টাকা বিক্রয় করা যাবে। এতে আমি অনেক লাভের আশা করছি। চরের অপর কৃষক রিয়াজ উদ্দিন জানান, চরের বালু মিশ্রিত জমিতে অন্য ফসলের তুলনায় পিঁয়াজ চাষ ভালো হয়। আমরা অনেক কৃষক এবার পিঁয়াজ চাষ করেছি।

এবার চরাঞ্চলে প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে পিঁয়াজের আবাদ হয়েছে। স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবু হানিফ মাস্টার বলেন, চরাঞ্চলের কৃষকদের জীবন মানোন্নয়নে অর্থকরি ফসল পিঁয়াজ, চিনা, কাউন, বাদাম, মাসকলাই, মসুর ডালসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে এখানকার চাষিরা। কিন্তু এবার অনেকেই পিঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন। রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, এ উপজেলায় ২১০ হেক্টর চরাঞ্চল আছে। তন্মধ্যে ১০০ হেক্টর চরাঞ্চলের জমিতে পিঁয়াজের চাষাবাদ হচ্ছে। বাকি চরাঞ্চলের পতিত জমি পিঁয়াজ চাষের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাড় চরাঞ্চলের মাটি পিঁয়াজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী।

এই বিভাগের আরও খবর