শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২৫

আট বছর হামলার ক্ষত নিয়ে চলছে কানসাট পল্লী বিদ্যুৎ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

আট বছর হামলার ক্ষত নিয়ে চলছে কানসাট পল্লী বিদ্যুৎ
Google News

হামলার আট বছরে ক্ষত নিয়ে চলছে কানসাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। আজ সেই ২৮ ফেব্রুয়ারি। ২০১৩ সালের এ দিনে কানসাটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দফতরে হামলা চালিয়ে লুটপাটের পর আগুন লাগিয়ে দেয় একটি স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। সেই ক্ষত নিয়ে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ ভবন। তখন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল শত শত কোটি টাকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। আর এ ঘটনার আট বছর ধরে চলছে মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এ ঘটনার তিনটি মামলায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রত্যাশা করেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ চলমান থাকায় দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ হবে বলে আশা করছেন সরকার পক্ষের আইনজীবী। একসময় শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দফতর ছিল। নতুন করে রঙের প্রলেপে দেয়ালের দাগগুলো মুছে গেলেও, মন থেকে সে দাগ আজও মুছে যায়নি। সেদিনের তান্ডবের দৃশ্য এখনো অনেকেই শিহরিত হয়ে ওঠেন। শুধু কানসাটেই নয় এদিন তারা তান্ডব চালায় জেলা শহরে অবস্থিত জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন স্থানেও। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হলে ওইদিন কানসাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দফতরে ভাঙচুর, পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহের প্লান্টসহ ট্রান্সফরমার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক লুটপাট ও ধ্বংসলীলা চালায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস হয়। তাদের কবল থেকে রক্ষা পায়নি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আবাসিক ভবনগুলোতে বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এই ভয়াবহ হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তৎকালীন এজিএম রেজাউল করিম বাদী হয়ে তিনটি মামলা দায়ের করেন। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, এখনো ধকল সামলিয়ে উঠতে পারা যায়নি। পূর্ণাঙ্গতা পেতে এখনো অনেক সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বোর্ডের সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম বলেন, যারা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালিয়েছিল বিচারের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করতে আর কেউ সাহস পাবে না। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে বর্তমানে জেলা শহরের নয়াগোলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দফতরটি স্থানান্তরিত করা হলেও এখনো ভৌতকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. নাজমুল আজম বলেন, বিচারিক কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। রাষ্ট্রের প্রত্যাশা এ ক্ষতির যেন ন্যায় বিচার পায়।

এই বিভাগের আরও খবর