শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০৫

চুয়াডাঙ্গার ‘কবরী রোড’ দেখে গেলেন না নায়িকা

জামান আখতার, চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গার ‘কবরী রোড’ দেখে গেলেন না নায়িকা
Google News

চুয়াডাঙ্গাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই চিরবিদায় নিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি নায়িকা সারাহ বেগম কবরী। তার মৃত্যুতে আক্ষেপ থেকে গেল চুয়াডাঙ্গাবাসীর মনে। কারণ মিষ্টি মেয়ে কবরীর নামে চুয়াডাঙ্গায় যে সড়কের নামকরণ করা হয়েছে, তা দেখে গেলেন না নায়িকা। যদিও ‘কবরী রোড’ সম্পর্কে জানতে পেরে চুয়াডাঙ্গায় আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কবরী। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খ্যাতিমান পরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতা ১৯৬৯ সালে চুয়াডাঙ্গায় আসেন ‘কখগঘঙ’ চলচিত্র নির্মাণ করতে। সঙ্গে আসেন সে সময়ের জনপ্রিয় জুটি নায়করাজ রাজ্জাক, নায়িকা কবরী এবং আনোয়ার হোসেনের মতো বাঘা বাঘা অভিনেতা। পরিচালক চুয়াডাঙ্গা শহরের আরামপাড়া সংলগ্ন ‘সেতাব মঞ্জিল’ নামের একটি বাড়িতে অবস্থান নেন। সেখানে এক মাস অবস্থান করে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় ‘কখগঘঙ’ চলচিত্রের চিত্রায়ন করেন। এ বাড়িতেই অন্যদের সঙ্গে মাসাধিককাল অবস্থান করেন নায়িকা কবরী।  ১৯৭০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্জাক-কবরী অভিনীত ‘কখগঘঙ’ চলচিত্রটি মুক্তি পায়। ব্যাপক জনপ্রিয়তাও পায় চলচিত্রটি। কবরী অভিনীত এ চলচিত্রের জনপ্রিয়তার কারণে স্থানীয়রা ‘সেতাব মঞ্জিল’ সংলগ্ন সড়কটির নামকরণ করে ‘কবরী রোড’। সেই থেকেই চুয়াডাঙ্গার সব এলাকার মানুষ একনামে চেনে ‘কবরী রোড’।

কবরী রোডের বাসিন্দা হুমায়ন কবীর রিমু জানান, ‘সেতাব মঞ্জিল’ বাড়িটির মালিক মোরশেদ আহমেদ তোকা মিয়া ছিলেন ‘কখগঘঙ’ চলচিত্রের সহকারী পরিচালক। চুয়াডাঙ্গার আরেক কৃতী সন্তান বেবি ইসলাম ছিলেন এ চলচিত্রের চিত্রগ্রাহক। মূলত তাদের উদ্যোগেই চুয়াডাঙ্গায় ‘কখগঘঙ’ চলচিত্র নির্মিত হয়। যা মুক্তির পর ব্যাপক দর্শকপ্রিয় হয়।

স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা জানান, চুয়াডাঙ্গায় ‘কবরী রোড’ নামকরণের বিষয়টি জানার পর এখানে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন জনপ্রিয় এই নায়িকা। কিন্তু সে ইচ্ছা অপূর্ণ রেখেই তাকে চিরবিদায় নিতে হলো। সংস্কৃতিকর্মীদের দাবি, ‘কবরী রোড’ ও কবরীর স্মৃতি বিজড়িত ‘সেতাব মঞ্জিল’ সংরক্ষণের জন্য সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হোক।

এই বিভাগের আরও খবর