বুধবার, ১২ মে, ২০২১ ০০:০০ টা

আমে ঘুরছে নওগাঁর অর্থনীতির চাকা

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

আমে ঘুরছে নওগাঁর অর্থনীতির চাকা

ধানের জন্য বিখ্যাত নওগাঁ। এ জেলাতে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানার অধিকাংশই কৃষিভিত্তিক। কৃষিই নওগাঁর অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের চাবিকাঠি। কাটারিভোগ, জিরাশাইল, সুগন্ধিসহ উন্নতমানের চালের সিংহভাগ জোগান দেয় এ জেলা। অল্পদিনের মধ্যে ধানের রাজ্যে ঘটেছে আমের বিপ্লব। গত এক যুগে ধানের পাশাপাশি আম চাষে পাল্টে গেছে জেলার চিত্র। চলতি মৌসুমে নওগাঁয় আম আবাদ হয়েছে ২৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। এখানে উৎপাদিত আমের মধ্যে রয়েছে আম্রপালি, বারি-৪, আশ্বিনা, ফজলি, ন্যাংড়া, ক্ষিরসাপাত, গৌড়মতি, কাটিমন জাত। আম চাষিদের দাবি, নওগাঁর সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলার আম সবার কাছে কমবেশি পরিচিত। এ জেলায় আগে চারদিকে দেখা যেত ধান খেত। ২০০৭ সালের পর থেকে ধানের পাশাপাশি আম বাগান হচ্ছে। আগে নিজেরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম খুঁজতাম। এখন নওগাঁর আম কিনতে সারা দেশ থেকে লোক আসে। ধানের চেয়ে আমে বেশি লাভ হওয়ায় এদিকে ঝুঁকছেন চাষিরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ খান জানান, নওগাঁয় আমে ঘুরছে অর্থনীতির চাকা।

কদিন বাদে আমের ভরা মৌসুম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নওগাঁয় এসে প্রতিদিন শত শত ট্রাক আম কিনে নিয়ে যাবেন ব্যবসায়ীরা। গত মৌসুমে আম বিক্রি করে চাষিদের ঘরে এসেছে স্বচ্ছলতা। এক সময়ে যাদের কোনো কাজ ছিল না তারা এখন কেউ বাগান পাহারা দিচ্ছেন, কেউ বাগান পরিচর্যা করছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, নওগাঁ খাদ্যউদ্বৃত্ত জেলা হলেও বর্তমানে আম চাষ বেশি হচ্ছে। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জমি লিজ নিয়ে আম বাগান তৈরি করছেন। এ জেলায় যেভাবে আম চাষ বাড়ছে এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখবে। সাপাহার আম আড়ৎ মালিক সমিতির আহ্‌বায়ক গোলাম মোস্তফা জানান, গত এক যুগে সাপাহারে আম বাজার ঘিরে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আম কিনতে আসেন। তাদের পছন্দমতো আড়তে অবস্থান করে সরাসরি বাগান থেকে আম কিনতে পারেন। এমন সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা দেশের আর কোনো জেলায় নেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সামছুল ওয়াদুদ বলেন, নওগাঁর পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলায় বেশি আমবাগান। মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণে এখনে আমের ফলন ভালো হচ্ছে। গত বছর জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল দুই লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন। এবার তিন লাখ ২০ হাজার মেট্রিকটন আম বাজারে সরবরাহ করা হবে। নওগাঁর প্রশাসক হারুন-অর রশীদ বলেন, এ জেলায় নওগাঁয় দিন দিন বেড়ে চলেছে আম চাষ। এ জেলা থেকে আম আমদানিকারক দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, সুইডেন, সৌদিআরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান। রফতানিযোগ্য আমের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছেন।