শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:২৩

থামছেই না তিস্তার ভাঙন

উজানের ঢলে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও কমার ফলে শুরু হয়েছে নদীর ভাঙন। তিস্তার ভাঙনে দিশাহারা হয়ে ভিটেবাড়ি হারানোর শঙ্কায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিন ইউনিয়নের দশ গ্রামের মানুষ

রেজাউল করিম মানিক, লালমনিরহাট

থামছেই না তিস্তার ভাঙন
Google News

কোনো ভাবেই থামছে না তিস্তার ভাঙন। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ভারী বৃষ্টিপাতে শুরু হয়েছিল তিস্তা ভাঙন। কিন্তু শ্রাবণ মাসে বৃষ্টিপাত না থাকলেও উজানের ঢলে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও কমার ফলে শুরু হয়েছে নদীর ভাঙন। তিস্তার তীব্র ভাঙনে দিশাহারা হয়ে ভিটেবাড়ি হারানোর শঙ্কায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের দশ গ্রামের মানুষ। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিস্তার ভাঙনে সিন্দুর্না ইউপির চর সিন্দুর্না গ্রামের ৭টি পরিবার ও কয়েকশ একর ফসলি জমি, পাটিকাপাড়া ইউনিয়নে চারটি পরিবার ও ডাউয়াবাড়ীতে আটটি পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। অনেকগুলো পরিবার বসতবাড়ি ভেঙে নিয়ে অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছে। হুমকির মুখে এই এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের চর সিন্দুর্না গ্রামের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তিস্তা নদীর ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ওই এলাকার মানুষজনরা এখন আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। অনেকে তাদের গরু, ছাগল, ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে যাচ্ছেন নিরাপদ আশ্রয়ে। চোখের সামনেই বাড়িঘর, জমিজমা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে তিস্তার ভাঙনে বসতভিটে হারিয়ে শত শত পরিবার রাস্তার ধারে খোলা আকাশে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিলেও তা করা হয়নি। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চর পাটিকা পাড়া পূর্ব ডাউয়াড়ী এলাকার আতাউর রহমান বলেন, চোখের সামনেই বাপ দাদার ভিটে বাড়ি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যে কিনারায় বসতবাড়ি করি সেখানেই আবার নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়। এভাবে ভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। নদীভাঙনের কবলে পড়া মানুষদের সাহায্যের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিস্তার গর্ভে ঘরবাড়ি আর ফসলি জমি হারিয়েছেন চর সিন্দুর্না গ্রামের কৃষক আকবর আলী। তিনি বলেন, প্রত্যেকবার বাড়ি করি আর প্রত্যেকবার নদী বাড়ি ভেঙে নিয়ে যায়। তিস্তা নদী ভাঙন মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধান চান তিনি। সিন্দুর্না ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আমিন বলেন, গত কয়েক দিনের বন্যার পর পানি কমতে থাকায় ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এবারের ভাঙনে সিন্দুর্না ইউনিয়নে এরই মধ্যে ১৩ বসতবাড়ি ও অর্ধশতাধিক একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরও নতুন নতুন এলাকা ভাঙছে। কোনোভাবেই তিস্তার ভাঙন থামানো যাচ্ছে না। হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছে। এবারে বন্যায় তিন ইউনিয়নে এ পর্যন্ত ৩৪টি বাড়ি ভাঙনের তালিকা পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের চারটি পরিবারের জন্য এক বান্ডিল ঢেউটিন ও ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্যদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। লালমনিরহাটের ডিসি আবু জাফর বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর