রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

পরীক্ষা ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন করোনা উপসর্গের রোগীরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রতিদিনি ভিড় করছে শত শত রোগী। যাদের মধ্যে সিংহভাগই করোনা উপসর্গ নিয়ে। করোনা পরীক্ষা করানোর জন্যে গাদাগাদি করে হাসপাতালে জমাট বাঁধছে তারা। তবে পরীক্ষা করাতে না পেরে হতাশ হয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে অধিকাংশ রোগীকে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে দিনে ৬০ থেকে ৮০ জন রোগীর করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এতে করে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক করোনা উপসর্গীয় রোগীকে পরীক্ষা ছাড়াই ফিরে যেতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে জনবল সংকটের কারণে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে রোগীদের। গতকাল করোনা পরীক্ষা করাতে এসে ফিরে যেতে দেখা যায় শহরের জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে। তার সঙ্গে কথোপকথনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সকাল ১১টার সময় এসে আধাঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে টোকেন নিয়েছি। এরপর ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা করাতে আসি। এখন তারা কাল আসতে বলছে। বিষয়টি আমাদের জন্যে অনেক বিভ্রান্তিজনক। ব্যবসায়ী হিমেল তিগ্যা বলেন, কাল এসে ফিরে গেছি। আজও ফিরে যেতে হচ্ছে। পরীক্ষা করাতে এসেই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। আর সম্ভব নয়। যাই হবে  হোক। আমি আর পরীক্ষা করাতে আসব না। দেশের উত্তর সীমান্তের এ জেলায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনা  রোগীর সংখ্যা। সেই মোতাবেক বাড়ছে করোনা পরীক্ষার চাপ। যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এপ্রিল- মে মাসে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জুন মাসের পর থেকে বেড়েছে ১৫গুণ।

এমন অবস্থায় সঠিকভাবে করোনা পরীক্ষা করা না গেলে পরিস্থিতি আরও বেগতিক হতে পারে বলে মনে করছে স্থানীয়রা। জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় গবেষক ও  সাংবাদিক আব্দুল লতিফের সঙ্গে। তিনি বলেন, করোনা পরীক্ষা না করে এভাবে যদি রোগীদের  ফেরত দেওয়া হয়। তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা পরীক্ষার প্রতি অনীহা সৃষ্টি হবে। এমনটা হলে এই জেলার জন্যে অনেক ভয়ঙ্কর একটি সময় অপেক্ষা করছে। আমরা এমনিতে কম সতর্ক। তার মধ্যে যদি নিজের করোনা সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে না পারি তাহলে আরও অসতর্ক হয়ে যাব। লোকালয়ে মিশে সংক্রমণ বাড়িয়ে দিব। তাই দ্রুত কোনো উপায় বের করে শতভাগ রোগীর করোনা পরীক্ষা নিশ্চিত করা উচিত। এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নাজিরুল ইসলাম চপল জানান, আমাদের জেলায় দিন দিন করোনা রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে জনবল বাড়ানো সম্ভব হয়নি। আমাদের হাসপাতালে জনবল সংকট। সে কারণে সঠিকভাবে করোনা পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। প্যাথলজি, এন্টিজেন পরীক্ষা, সেম্পল  নেওয়া, সিরিয়াল নেওয়া এই সম্পূর্ণ বিভাগে ২৪ ঘণ্টার জন্যে আমাদের কর্মকর্তা রয়েছে মাত্র ০৬ জন। করোনা পরীক্ষা ছাড়াও হাসপাতালের বাকি সব পরীক্ষা এই জনবলেই করাতে হচ্ছে। তাই পরীক্ষা করাতে আসা  রোগীদের মধ্যে থেকে ৬০ জন আর ভর্তি থাকা  রোগীদের মধ্য থেকে ২০ জনের মতো সেম্পল নিয়ে পরীক্ষা করছি। বাকিদের পরবর্তী দিনে আসতে বলা হচ্ছে। রোগীদের পরীক্ষা ছাড়াই ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিতে আমরাও চিন্তিত। কিন্তু আমরা সম্পূর্ণভাবে উপায়হীন।

সর্বশেষ খবর