রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

আট মাসেও প্রস্তুত হয়নি সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট

এস এম রেজাউল করিম, ঝালকাঠি

আট মাসেও প্রস্তুত হয়নি সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে আট মাস আগে শুরু হয়েও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্লান্ট নির্মাণ শেষ না হওয়ায় এবং আইসিইউ ইউনিট স্থাপন না থাকায় করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। গুরুতর  রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালি ও অব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের উদাসীনতার খেসারত দিচ্ছে রোগীরা। ঠিকাদার ও ঝালকাঠি স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয় না থাকায় করোনা চিকিৎসা হুমকির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর জন্য কাজ শুরু হলেও এখনো তা শেষ হয়নি। এসব কারণে সদর হাসপাতালে করোনা রোগীরা যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না। এ ছাড়া হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালুর জন্য আট মাস আগে প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ করে স্বাস্থ্য অধিদফতরে প্রস্তাব পাঠানো হলেও কোনো বরাদ্দ বা যন্ত্রাংশ আসেনি। এক করোনা রোগীর স্বজনরা বলেন, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ও আইসিইউ সুবিধা না থাকায় রোগীদের বরিশাল যেতে হচ্ছে। ঝালকাঠি থেকে বরিশাল গিয়ে চিকিৎসা করাতে বাড়তি অর্থের পাশাপাশি হয়রানি আর ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়। এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আবুয়াল হাসান বলেন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন না থাকায় চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। ডাক্তার নার্সের সংকট না থাকলেও আয়া ও ক্লিনার সংকটের কারণে করোনা ওয়ার্ড সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অক্সিজেন সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে গত বছরের ২৫ নভেম্বর ঝালকাঠি সদর হাসপাতালসহ সারা দেশের ২৩টি হাসপাতালে একযোগে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপনের শুরু করে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ৯০ ভাগ কাজ শেষ।

 নির্মাণ করা হয়েছে ৬ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার অক্সিজেন ট্যাংক। কিন্তু এখন ধীরগতিতে চলছে পাইপ স্থাপনের কাজ। নির্মাণের প্রায় শেষ পর্যায়ে কিছু কাজ বাকি থাকায় অক্সিজেন সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ সিলিন্ডার দিয়ে করোনা রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রণালয় থেকে ২৩টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যাদেশ একযোগে  দেওয়ায় দেখভাল করছেন তারাই। স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কোনো ডিজাইন না দেওয়ায় বা পর্যবেক্ষণের কোনো ক্ষমতা না দেওয়ায় তারা তদারকি করতে পারছে না।  তবে তীব্র শ্বাসকষ্টের  রোগীদের ঝুঁকি না নিয়ে বরিশাল শেরেবাংলা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জেলার নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর অবস্থা করোনায়  কোনো চিকিৎসা নেই বললেই চলে বলে জানিয়েছে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। এ অঞ্চলের মানুষের গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে বিভাগীয় শহরে শেরেবাংলা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশালের করোনা ইউনিটই একমাত্র ভরসা। সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালী বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ  শেষ করার জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকেও জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, অক্সিজেন সংকটের কারণে ট্যাংকে অক্সিজেন ভরা যাচ্ছে না। ঝালকাঠি-বরিশালসহ প্রায় সব জায়গায়ই বর্তমানে চাহিদার তুলনায় অক্সিজেন সরবরাহ কম থাকায় ঠিকাদাররাও হিমশিম খাচ্ছেন। সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু হলে মুমূর্ষু রোগীদের এখানেই চিকিৎসা  দেওয়া সম্ভব হবে। আইসিইউ চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, সদর হাসপাতালে আইসিইউ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেখানে ১০ শয্যার আইসিইউ ও ৫ শয্যার এইচডিইউ থাকবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রাংশের ব্যবস্থা করা হবে। সিভিল সার্জন আরও বলেন, বর্তমানে এই প্ল্যান্টটি অক্সিজেন উৎপাদন চালু না থাকায় প্রতিদিন হাসপাতালের জন্য ২০টি বড় আকারের সিলিন্ডারে অক্সিজেন বরিশাল থেকে ভরে আনতে হচ্ছে। লকডাউনকালীন পবিরহন ও সিলিন্ডার ওঠানো নামানোর জন্য শ্রমিক সংকট রয়েছে। এর মধ্যেও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে হাসপাতালে সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ বজায় রাখতে হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিজনিত বিপর্যয় শুরু হওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্য বিভাগ ১০০ শয্যার হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সংকট মোকাবিলায় তিন কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সপেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনাল লিঃ এই প্রতিষ্ঠানটি প্ল্যান্ট নির্মাণ কাজ করেছে। এটি ১০ হাজার ৪৩৪ লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। প্ল্যান্টে একবার লিকুইড দেওয়া হলে ১০০ রোগী তিন মাস ব্যবহার করতে পারবেন।