ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্রি ইউনিয়নে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও এখনও তা চালু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন আর অবহেলায় হাসপাতালের ভবনগুলো নষ্ট হতে বসেছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির কারণে ভবনের আশপাশের মাটি সরে গেছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ভবনগুলো। স্থানীয়রা বলছেন, হাসপাতালটি দ্রুত চালু না হলে তারা আন্দোলনে নামবেন।
স্থানীয়রা জানান, ফরিদপুরের সালথা উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে ২০১২ সালে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়। সেই সময় হাসপাতালটির ভিক্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন ফরিদপুর-২ আসনের এমপি, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। ২০১৬ সালে হাসপাতালটির বেশীর ভাগ অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও এখনো বাকি রয়েছে কিছু কাজ। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজের সাথে জড়িত ঠিকাদারের অবহেলার কারণেই নির্ধারিত সময় শেষ হলেও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। ফলে চালু হচ্ছে না এ হাসপাতালটি।
হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় একদিকে যেমন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ এলাকার মানুষ। অন্যদিকে, ভবনগুলো ক্রমেই জরাজীর্ন হয়ে পড়ছে। কয়েকটি ভবনের দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে। নষ্ট হতে বসেছে ভবনের দরজা-জানালাগুলো। হাসপাতালের চারদিকে দেয়াল না থাকায় মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। যার কারণে ভবনের অনেক কিছুই ইতোমধ্যেই চুরি হয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে ভবনের পাশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ভবনগুলো রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। এছাড়া ভবন নির্মাণের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বেশ কিছু ব্যক্তি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এ হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য হাসপাতালটি নির্মাণ করা হলেও উদ্বোধন না হওয়ায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয়রা। ফলে ফরিদপুর ও ঢাকায় ছুটে যেতে হয় রোগীদের। দ্রুত হাসপাতালটি চালুর জোর দাবি জানিয়েছে সালথাবাসী।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৌশলী মো. মাহাবুবুল আলম জানান, তিনটি প্যাকেজে কাজ হচ্ছে সালথা উপজেলা হাসপাতালটির। এরমধ্যে ৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে কোয়ার্টার ভবন, ৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল ভবন এবং ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাটের কাজ হয়েছে। এরমধ্যে সীমানা প্রাচীরের কাজ বাকি রয়েছে। এটি টেন্ডার হলেই আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে এবং হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।
এদিকে, হাসপাতালের সংযোগ সড়ক, চারপাশের দেয়ালসহ বাকি কাজ শেষ হলেই এ বছরের মধ্যে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহজাহান কবির। তিনি জানান, কিছু জটিলতা থাকার হাসপাতালটি উদ্বোধন করা যাচ্ছেনা।
বিডি প্রতিদিন/২৫ জুলাই ২০১৮/হিমেল