উদ্বেগ-উৎকন্ঠা মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন। বুধবার সকাল ৮টায় শুরু হয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা নিজেদের ভোট প্রয়োগ করেন। এ অবস্থা চলতে থাকে বিকেল চারটা পর্যন্ত। তবে নির্বাচনের কেন্দ্রেগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। একই সাথে নাশকতা এড়াতে কঠোর অবস্থানে ছিল, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও সেনা সদস্যসহ বিভিন্ন গয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা। তাই নির্বাচন অনেকটা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
রাঙামাটি নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙমাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নিবার্চনে ভোট কেন্দ্র ছিল ১৪টি। আর এ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার ৮৫৪। তন্মধ্যে পুরুষ ১৭০০৮ এবং নারী ১৫৮৪৬ জন। এ নির্বাচনে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর ছিলনা কোন প্রার্থী। তবে নানিয়ারচর উপজেলায় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা ও প্রভাব বেশি থাকার কারণে নির্বাচনে অংশ নেয়- তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তারা হলেন- আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের মধ্যে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থীত প্রার্থী প্রগতি চাকমা (আনারস), একই গ্রুপের অপর আর এক প্রার্থী কল্পনা চাকমা (দোয়াত কলম) ও এমএন লারমা (সংষ্কারপন্থী) গ্রুপের সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রণতি চাকমা (কাপ পিরিচ) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।
রাঙামাটি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ শেখ জানান, শান্তি পূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোট কেন্দ্র এলাকায় নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। পুরো উপজেলা মিলে পর্যাপ্ত সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব-৭ ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়। তাই কেউ ইচ্ছে করেও সহিংসতা সৃষ্টি করতে পারেনি। এছাড়া সবকটি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাই এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে নিজ কার্যালয়ের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে। এতে পদটি শূন্য হওয়ায় উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।
বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন