শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৬:১৩
প্রিন্ট করুন printer

গলাচিপায় সপ্তমী মেলা উৎসব পালিত

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিিধি

গলাচিপায় সপ্তমী মেলা উৎসব পালিত

পটুয়াখালীর গলাচিপায় রণগোপালদী নদীর পাড়ে সপ্তমী মেলা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে কালী পূজা ও শিব পূজার মধ্য দিয়ে এ মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। ভোর থেকেই ঢাক-ঢোল, শঙ্খসহ বিভিন্ন বাদ্য-বাজনা ও দর্শনার্থীদের মুহূর্মুহূ কলরবে মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। মেলায় অনেক শিশুর বাৎসরিক মাথা মুণ্ডন করা হয়। এছাড়া মেলার কালী মন্দিরে পাঠা বলিদান ও শিব মন্দিরে ধূপ, চিনি ও মিষ্টি সামগ্রী দেয়া হয়। মেলায় রং বেরঙের আকর্ষণীয় বিভিন্ন খেলনার দোকান, পল্লীবাসীদের স্বহস্তে তৈরিকৃত বুনন শিল্পের সামগ্রী, গৃহস্থলীর ব্যবহার্য তৈজস পত্রের পণ্য সামগ্রী, মাটির তৈরি বাসন-কোসনের হরেক রকম দোকান, মিষ্টির দোকান, ফল-ফলাদির দোকান ও বিভিন্ন আইটেমের খাবারের দোকান দেখা যায়।

মেলায় হাজার হাজার দর্শনার্থীদের আগমনের মধ্য দিয়ে মেলাটি তার বিচিত্র রূপ বৈশিষ্ট্য ধারণ করে শত বছরের ঐতিহ্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে আজও স্বগৌরবে প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাঁয় দাড়িয়ে আছে। দেশ-বিদেশ থেকে অনেক দর্শনার্থীরা এখানে এসে তাদের নয়ন জুড়ায় ও আত্মার তুষ্টি লাভ করেন। গভীর রাত পর্যন্ত মেলায় বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের সমাগম থাকে বলে মেলা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, অর্থের অভাবে মেলার কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। মেলাটির বৃহত্তম আঙ্গিনার অনেক জায়গা আজ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

জায়গার অভাবে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মেলা এক সময়ে কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় সরকারি প্রশাসনিক ও আর্থিক সাহায্যের একান্ত প্রয়োজন। এককালীন ও বাৎসরিক সরকারি অনুদান পেলে মেলার আঙিনার বিস্তৃতি ও মন্দির পুনঃসংস্কারের মধ্য দিয়ে মেলাটি আবার ফিরে পাবে তার পুরনো রূপ।

এ ব্যাপারে মেলার পুরোহিত নিখিল গাঙ্গুলী (৩০) বলেন, প্রতি বছরের মত এবারও মেলা শুরু হয়েছে, তবে নদী ভাঙনের ফলে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মেলায় আগত মানুষদের দাঁড়িয়ে থেকে বেশ দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে।

মেলা কমিটির সভাপতি বিমল সমদ্দার বলেন, অনেক বছরের পুরনো মেলা নদী ভাঙ্গনের কারণে মেলার আঙিনা দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে।

মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু যুগল কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, অচিরেই যদি নদীর পাড়ে গাইড ওয়াল করা হয় তাহলে এই পুরনো দয়াময়ী মন্দিরটি তার ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

উক্ত এলাকার বর্তমান ইউপি সদস্য দেবাল সমদ্দার বলেন, দয়াময়ী মেলার আঙ্গিনা নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে এর আসল চেহারা হারিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন রিয়াদ বলেন, শ্রী শ্রী দয়াময়ী কালী মন্দিরের সংস্কার কাজ অতীব জরুরি বিধায় আমি সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সামান্য কিছু অর্থ জোগাড় করে মন্দিরের সংস্কার ও এ বছরের মেলা উদযাপনের কোন রকম ব্যবস্থা করতে পেরেছি মাত্র। মেলাটি যাতে টিকে থাকতে পারে সেজন্য সরকারের সার্বিক সহযোগিতা প্রার্থনা করছি।

তিনি আরও বলেন, সাংসদ এস.এম শাহজাদার নির্দেশে সব ধরনের প্রশাসনিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে সর্বসাধারণ জাতি, ধর্ম, বর্ণ ভুলে গিয়ে নিরাপদে মেলায় যোগদান করে মেলার আনন্দ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতে পারবে বলে আশা রাখি।

মেলাটি এ অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বিশেষ ও ব্যতিক্রমধর্মী উৎসব। এটি এখানকার মানুষের একদিকে দেবতার তুষ্টি লাভের উৎসব অন্যদিকে সর্বসাধারণ তথা বিশেষভাবে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের কাছে বিপুল আনন্দের খোরাক। ইহলৌকিক ও পরলৌকিক ভাবদর্শন, দেব-দেবীর গুণ কীর্তনের সমন্বয়ে এ যেন এক মিলনমেলা। মানুষের জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভাল-যথা ধর্ম তথা জয়-মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে বয়সের মধ্যে নয় - এ হচ্ছে এ মেলার শ্বাশত মর্মবাণী-ঐতিহ্যময় ধর্ম ও লৌকিক সাংস্কৃতিক উৎসবের অফুরন্ত উৎস।
  
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:১৯
প্রিন্ট করুন printer

নারায়ণগঞ্জে ৪ ইটভাটা মালিককে ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে ৪ ইটভাটা মালিককে ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা

নারায়ণগঞ্জের ৩টি উপজেলায় ৬টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে দুটি অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এছাড়া ৪টি ইটভাটাকে ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই ইটভাটাগুলো স্কুল, আবাসিক ও পৌর এলাকায় পরিচালিত হচ্ছিল।

মঙ্গলবার দিনব্যপী পরিবেশ অধিদফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু হাসানের নেতৃত্বে পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়, পুলিশ ও র‌্যাব-১১ এর সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ, বন্দর ও আড়াইহাজার উপজেলায় ৬টি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এসময় পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইটভাটাগুলো পরিবেশগত ছাড়পত্র বিহীনভাবে আবাসিক এলাকা, পৌরসভা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন স্থানে পরিচালিত হচ্ছে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপনে আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের কারণে অবৈধ ইটভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ কর্তৃক অবৈধ ইটভাটা বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২১:৩০
প্রিন্ট করুন printer

কুমিল্লায় যুবলীগ কর্মী হত্যা মামলায় সিটি কাউন্সিলর গ্রেফতার

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লায় যুবলীগ কর্মী হত্যা মামলায় সিটি কাউন্সিলর গ্রেফতার

কুমিল্লার আলোচিত যুবলীগ কর্মী জিল্লুর রহমান চৌধুরী ওরফে গোলাম জিলানী হত্যা মামলার আসামি সিটি কাউন্সিলর আবদুস সাত্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই, কুমিল্লার পরিদর্শক মো.মতিউর রহমান। গ্রেফতার সাত্তার নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং জিল্লুর হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি।

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত বছরের ১১ নভেম্বর নগরীর চৌয়ারা এলাকায় যুবলীগ কর্মী জিল্লুর রহমান চৌধুরীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। ঘটনার পরদিন তাঁর ভাই ইমরান হোসেন চৌধুরী সদর দক্ষিণ থানায় ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আলোচিত এ মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ। সর্বশেষ গত ১ ডিসেম্বর মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই, কুমিল্লা। কাউন্সিলর সাত্তার গ্রেপ্তারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ইমরান হোসেন চৌধুরী। 

এদিকে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের শামবক্সি (ভল্লবপুর) এলাকায় সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলে করে এসে ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ারকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। দেলোয়ার কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে ছিলেন। এ ঘটনার পরদিন নিহতের বড় ভাই মো.শাহাদাত হোসেন নয়ন বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলাটিও থানা ও ডিবি পুলিশ পর তদন্ত শুরু করে পিবিআই, কুমিল্লার সদস্যরা। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর পিবিআইয়ের সদস্যরা এ মামলায় সদর দক্ষিণ থানার নোয়াগ্রাম গ্রামের সফিকুর রহমান রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করে। আনোয়ার মামলার প্রধান আসামি রেজাউলের বিশ্বস্ত সহযোগী। ওইদিন পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে সে দেলোয়ার হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা স্বীকার করে। এরপর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আনোয়ার। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আনোয়ার জানায়, দেলোয়ারকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী কাউন্সিলর আবদুস সাত্তার।  

দেলোয়ার হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই, কুমিল্লার পরিদর্শক মো.মতিউর রহমান এবং জিল্লুর হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক বিপুল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, গ্রেফতারকৃত সাত্তারকে আলোচিত এই দু’টি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। জিল্লু হত্যা মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। দেলোয়ার হত্যা মামলায় একজন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এজন্য ওই মামলায় তাকে আর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। 

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:৩২
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:৩৭
প্রিন্ট করুন printer

নাটোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মাসুমকে খুঁজছে পুলিশ!

নাটোর প্রতিনিধি:

নাটোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মাসুমকে খুঁজছে পুলিশ!
আরিফুর রহমান মাসুম

চাঁদা না দেওয়ার কারণে ঠিকাদারের প্রতিনিধির ওপর হামলার ঘটনায় নাটোর পৌরসভার কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান মাসুমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নাটোর শহরের ঠিকাদার মেসার্স পিংকি কন্সট্রাকশনের মালিক আশফাকুল ইসলাম।

সোমবার রাতে তিনি নাটোর সদর থানায় কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম মাসুমের নামে মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনার পর থেকে কাউন্সিলর মাসুমকে আটকের জন্য খুঁজছে পুলিশ।সকালে কাউন্সিলর মাসুমের আলাইপুরস্থ নিজ বাড়িতে অভিযান চালায় নাটোর সদর থানা পুলিশ। এসময় পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায় সে। তাকে আটকের জন্য জেলা পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে।

নাটোর পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, মেসার্স পিংকি কন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ মোতাবেক শহরের মিরপাড়া এলাকায় একটি নর্দমা (আরসিসি ড্রেন) নির্মাণ করছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আশফাকুল ইসলাম মঙ্গলবার সকাল থেকে নর্দমা নির্মাণের কাজ অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছেন। একইসাথে তিনি কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হওয়ার কারণে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি পৌর মেয়র বরাবর একটি লিখিত দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। কাজ বন্ধ করার কারণ জানতে চাইলে মেসার্স পিংকি কন্সট্রাকশনের মালিক আশফাকুল ইসলাম জানান, কাজ শুরুর পর পরই পৌরসভার কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আরিফুর রহমান ওরফে মাসুম তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অপারগতা জানিয়ে কার্যাদেশ মোতাবেক কাজ বুঝে নেওয়ার অনুরোধ করেন।

তবুও রবিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ওই কাউন্সিলর ক্যাডারদের নিয়ে নির্মাণস্থলে গিয়ে তার প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করেন। তারা সাইট ম্যানেজার তারিকুর রহমানকে বেদম মারপিট করে এবং তার কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে আসেন। এ ব্যাপারে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল, পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জলি ও পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচার না করা পর্যন্ত তিনি নর্দমা নির্মাণের কাজ করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানার জন্য মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত কাউন্সিলরের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে। মাসুমকে আটকের জন্য পুলিশ খুঁজছে।

নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরি জলি জানান, ঠিকাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে কাউন্সিলর মাসুমের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:৩০
প্রিন্ট করুন printer

গাজীপুরে নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে নারীর ঝুলন্ত লাশ

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরে নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে নারীর ঝুলন্ত লাশ

গাজীপুরে মহিলা, শিশু ও কিশোরী নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে গলায় ফাঁসি লাগানো অবস্থায় নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের নাম নাজমা আক্তার (২০)। তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার উত্তর কোনাপাড়া গ্রামের মো. হারেছ আলীর মেয়ে। 

মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মোগড়খাল এলাকায় অবস্থিত ওই কেন্দ্রের তৃতীয় তলায় ৩০৩ নম্বর রুমের টয়লেট থেকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়। 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মিজানুর রহমান জানান, ঢাকা শাহআলী থানার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গত ২২ ডিসেম্বর গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালিকা) হতে এ প্রতিষ্ঠানে আসে। তার (হেফাজতী সিরিয়াল নং-১২২৯) এবং ওইদিন থেকে এ কেন্দ্রের হেফাজতী ছিল। 

নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ওই কেন্দ্রে হেফাজতে থাকা সকল হেফাজতীদের প্রতিদিনের মতো ভবনের নিচে নামানো হলে ওই নারী মাথা ব্যথার অজুহাতে নিচে নামেননি। বেলা সোয়া একটার দিকে সবাইকে ভবনের উপরে পাঠালে সেখানে ৩০৩ নম্বর রুমে টয়লেটের দরজার সাথে ওই নারীর গলায় ওড়না প্যাঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় ওই কেন্দ্রের অপর হেফাজতীরা। খবর পেয়ে কর্তব্যরত নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ মর্গে রাখা হয়। 

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:২৪
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:২৯
প্রিন্ট করুন printer

রূপগঞ্জে দুই ব্যবসায়ীকে অজ্ঞান করে টাকা লুট

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

রূপগঞ্জে দুই ব্যবসায়ীকে অজ্ঞান করে টাকা লুট
প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কাপড় ব্যবসায়ী আপন দুই ভায়রাকে অজ্ঞান করে টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, মলম পার্টির সদস্যরা মোবাইল ফোনসহ ৫ লাখ টাকা লুট করে নেয়।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে গাউছিয়া পাইকারী কাপড়ের বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম ভূইয়া জানান, তিনি আড়াইহাজার উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের হাজী সোহরাবের ছেলে। মঙ্গলবার সকালে তিনি এবং তার ভায়রা নরসিংদী মাধবদী থানার খাদিমাচর এলাকার আব্দুর রউফের ছেলে শামিমকে নিয়ে পাইকারী কাপড় কিনতে গাউছিয়া কাপড়ের বাজারে আসেন।

কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে গাউছিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ৫০ গজ দূরে রেদোয়ান প্লাজার সামনে মলম পার্টির দুজন সদস্য তাদের মুখে রুমাল চেপে ধরেন। মুহূর্তে তারা অজ্ঞান হয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের দুজনের সাথে থাকা কাপড় কেনার ৫ লাখ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন লুটে নেয়। পরে স্থানীয় এক ভ্যান চালক তার ভ্যান গাড়িতে করে দুই কাপড় ব্যবসায়ীকে গাউছিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান।

এ ব্যাপারে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাজিমউদ্দিন মজুমদার বলেন, সাপ্তাহিক হাটের দিন এখানে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়। তাছাড়া লোকাল বাস আর লেগুনা-ট্রাকের কারণে মহাসড়কে যানজট লেগে যায়। এসব ব্যাপার সামাল দিতেই আমরা হিমশিম খাই। তাই সবাইকে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। ক্ষতিগ্রস্ত দুই ব্যবসায়ী এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এই বিভাগের আরও খবর