শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২১:০৯

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৩ দিন পর স্বামীর ঘরে ঠাঁই পেল স্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৩ দিন পর স্বামীর ঘরে ঠাঁই পেল স্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় স্ত্রী ও সন্তানের অধিকারের দাবিতে ৪ দিন স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নেওয়ার পর পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে স্বামীর ঘরে ঠাঁই পেল সোমা আক্তার (২২)। সোমা আক্তার উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের টানমান্দাইল গ্রামের মৃত শিশু মিয়ার কন্যা।

আজ শুক্রবার সকালে শ্বশুর তাকে একটি ঘরে থাকার জায়গা দেন। এর আগে গত সোমবার থেকে তিনি শিশু সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নেন। স্বামীর ঘর তালাবদ্ধ থাকায় খোলা আকাশের নিচে শিশু সন্তান নিয়ে দিনাতিপাত করেন স্বামীর অধিকার বঞ্চিত ওই গৃহবধূ। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিধি ও এলাকার গণ্যমান্য লোকজন কেউ এগিয়ে না আসায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন। 

জানা যায়, ২০১৬ সালে পারিবারিক সম্মতিতে আখাউড়া পৌরশহরের দেবগ্রামের জাহের মিয়ার ৩য় ছেলে রুবেল মিয়ার সাথে সোমা আক্তারের বিয়ে হয়।  রুবেল মিয়া চট্টগ্রামে গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করে। বিয়ের পর রুবেল মিয়া তার স্ত্রীকে নিয়ে কর্মস্থল চট্টগ্রামে চলে যায়। বছর খানেক পর সোমা আক্তার গর্ভবতী হলে তাকে বাপের বাড়িতে রেখে যান। ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল সোমা আক্তারের একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান হয়। সন্তান জন্ম হওয়ার পর আবারও স্বামীর সাথে চট্টগ্রাম চলে যান তিনি। ৪/৫ মাস পর স্বামী আর্থিক অসচ্ছলতার কথা বলে সন্তানসহ তাকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। 

এরপর থেকে আর  স্ত্রী-সন্তানের কোন খোঁজ খবর ও ভরন পোষন দেয় না রুবেল মিয়া। এরই মধ্যে রুবেল মিয়া আরেকটি বিয়ে করেছে। আর্থিক অনটনে মানবেতর জীবন যাবন করছে সোমা আক্তার।  শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। পরে উপায়ন্তর না দেখে স্বামীর বাড়িতে এসে অবস্থান নেন তিনি। 

সোমা আক্তার বলেন, আমার কোলে রুবেলের ২২ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান। আমার স্বামী শিশু সন্তানসহ আমার কোন খবর নেয় না। আমি শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয়ের জন্য এসেছি। আমি স্থানীয় কাউন্সিলর, পৌর মেয়র ও ইউএনওর কাছে বিষয়টি জানিয়ে দরখাস্ত দিয়েছি। কিন্তু কেউ সমাধান করছে না। 

সোমার আক্তারের বৃদ্ধা মা শিরিনা বেগম বলেন, শুনেছি রুবেল মিয়া আরেকটি বিয়ে করেছে। সে যদি আমার মেয়েকে নিয়ে সংসার না করে তাহলে আমার মেয়ের ন্যায্য পাওনা মিটিয়ে দিক। না হলে আমার মেয়ে ও তার সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে। 

সোমা আক্তার আরও বলেন, শ্বশুর আমাকে ঘরে থাকার জায়গা দেওয়ায় আমি খুশি। এখন স্বামীর অপেক্ষা আছি। 

রুবেল মিয়ার পিতা জাহের মিয়া বলেন, ছেলের বউকে আপাতত বাড়িতে থাকতে দিয়েছি। ছেলেকে খবর দিব। ছেলে এসে যা ভালো মনে করে করবে। 


বিডি-প্রতিদিন/ সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য