একবার গ্রামের বাড়ি জামালপুর যাচ্ছিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন। ট্রেনে নানা শ্রেণির মানুষ দেখতে দেখতেই খুঁজে পান ‘দ্রৌপদী এখন ট্রেনে’ উপন্যাসের প্লট। লেখার সময় মাথায় সিনেমার ভাবনাও ছিল। সেই ভাবনা থেকেই ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ সিনেমাটি নির্মাণ করেন তিনি। ১৯৭৮ সাল, ছবিটি নির্মাণের সময় লগ্নিকারক খুঁজে পেলেন না। তার আগের ছবি ‘নয়নমণি’ দারুণ সফল হলেও প্রযোজক এ কে এম জাহাঙ্গীর খান ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ প্রযোজনা করতে আগ্রহ দেখাননি। তার মতে, নিম্নবিত্তের সংগ্রামের গল্প দেখতে আগ্রহ দেখাবে না দর্শক। একটু দমে গিয়েছিলেন আমজাদ হোসেন। পরে নিজেই টাকা জোগাড় করে শুরু করলেন শুটিং। বিএফডিসিও যুক্ত হলো। নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে শুটিং হলেও মুক্তির পর হাসি ফোটে ছবি সংশ্লিষ্ট সবার। ছবির নির্মাণব্যয় ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা। বিপরীতে প্রায় কোটি টাকা আয় করে ছবিটি। আমজাদ হোসেনও এ ছবি দিয়ে প্রযোজক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। সেরা ছবিসহ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সর্বোচ্চ সংখ্যক ১১টি সম্মাননা লাভ করে ছবিটি। ববিতা বলেন, আমরা তখন ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’র শুটিং করছি। ট্রেন যাচ্ছে জামালপুরের দিকে। এর মধ্যে ট্রেনে বসেই আমজাদ ভাই একটা গান লিখে ফেললেন। গানটি হলো- ‘হায়রে কপাল মন্দ, চোখ থাকিতে অন্ধ’। গানটি এ ছবিতেই ব্যবহার করেছিলেন। এ গানটিও সেই সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ববিতা বলেন, মানিকগঞ্জের নদী-তীরবর্তী এক গ্রামে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ সিনেমার শুটিং। সেখানে মেকআপ নিয়ে সারা দিন অপেক্ষায় আমি। অন্য শিল্পীরা শুটিংয়ে অংশগ্রহণ করলেও আমার ডাক আসে না। যখন ডাক আসে তখন রাত ২টা। কনকনে শীতের মধ্যে ওই রাতে আনন্দচিত্তেই সংলাপ দিতে দাঁড়িয়েছিলাম আমি। কারণ, ছবির পরিচালক আমজাদ হোসেন। ‘প্রথম দৃশ্য : রেললাইন ধরে হেঁটে যাচ্ছেন গোলাপীরূপী ববিতা। মাথায় লাকড়ির বোঝা। একটি লাকড়ির দোকানের সামনে এসে থামলেন তিনি। বোঝাটি মাথা থেকে ফেলে দিয়ে বসলেন। তাঁর চোখে পড়ল পথে পড়ে থাকা প্রায় নিঃশ্বেষ একটি জ্বলন্ত সিগারেট। সেটি তুলে মুখে দিয়ে যেন সুখটান দিলেন আর ক্লান্তির ধোঁয়া শূন্যে মিলিয়ে গেল...’। এই ছিল ববিতা অভিনীত আমজাদ হোসেন পরিচালিত সেই অবিস্মরণীয় চলচ্চিত্র ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’র শুরুর গল্প। মাত্র ২৫ বছর বয়সে ববিতা এ ছবিটিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে আজও এ দেশের মানুষের মণিকোঠায় গোলাপী হয়ে জেগে আছেন। ববিতা বলেন, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ আমার অভিনয় জীবনের একটি সেরা সিনেমা। একপর্যায়ে স্মৃতিকাতর হয়ে ববিতা ফিরে যান ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’র শুটিং চলাকালীন সময়ে। সুখের স্মৃতি হাতরে বলে যান অনেক মজার গল্প। ববিতা বলেন, সিনেমার একটি দৃশ্যে গোলাপী ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কামরায় উঠে পড়ে। টিটি এসে বলে, এটি ফার্স্ট ক্লাস, গোলাপীকে টিটি এই কামরা থেকে বের করে দিতে চায়। তখন গোলাপী বলে ওঠে- ‘বাংলাদেশে কোনো কেলাস নাইগো। আমরা হগলেই এক কেলাসের মানুষ।’ ববিতা বলেন, গোলাপীর মুখ দিয়ে যেন পরিচালক তাঁর মনের কথাটাই দর্শককে জানিয়ে দিলেন। এ সংলাপগুলো কী অসাধারণভাবেই না আমজাদ ভাই ফুটিয়ে তুলেছিলেন তাঁর চরিত্রদের মধ্য দিয়ে। সে সময় এসব সংলাপ নিয়ে অফিস আদালতেও চর্চা হতো। আরেকটি গল্প হলো- আনোয়ার হোসেনের আত্মহত্যার দৃশ্যে যথার্থ ভোরের আলোটি ধারণের জন্য তিন দিন অপেক্ষা করে পুরো ইউনিট। ছবির প্রয়োজনে একটা বাড়ি পোড়াতে হবে। পরিচালক প্রতিদিনই পরিকল্পনা করেন সেট বানাবেন; কিন্তু টাকা নেই। যার বাড়িতে শুটিং চলছিল তিনি বুঝলেন আমজাদ হোসেনের অবস্থা, নিজের আরেকটি বাড়ি বিনামূল্যে পোড়ানোর অনুমতি দিলেন তিনি। ববিতা বলেন, সে সময় মানিকগঞ্জে খাবার ও থাকার কোনো সুব্যবস্থাই ছিল না। আমরা ‘ফকিরবাড়ি’তে শুটিং করেছিলাম। গোলাপীর বাড়ি, নদীর পাড়, খেত সবই ছিল সেখানে। আমি থাকতাম একটু দূরের একটা বাংলো বাড়িতে। শুটিংয়ের ডাক এলে থাকার জায়গা থেকে শীতের মাঝে কখনো লাশকাটা ঘরের পাশ দিয়েও গিয়েছি। ভালো খাবারও সেখানে পাওয়া যেত না। রাস্তার পাশের খাবার খেয়ে কাজ করেছে পুরো টিম ও আমি। যা এখনকার শিল্পী-কলাকুশলীদের প্রত্যাশা করা অকল্পনীয়। মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবসহ বিভিন্ন দেশের উৎসবে গিয়েছিলাম ছবিটি নিয়ে। কলকাতার প্রখ্যাত চলচ্চিত্রনির্মাতা মৃণাল সেন ছবিটির প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘কী অসাধারণ একটি ছবি, কীভাবে এ ছবি বানালেন আপনারা।’
শিরোনাম
- ওমরাহ করানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভোট চাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী
- এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে হাদিকে
- কুষ্টিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
- চট্টগ্রামে ছিনতাইকারীর হাতে যুবক নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ২
- ‘তরুণরা বিশ্বাস করে রাজনীতি কোনো ব্যবসা নয় জনসেবা’
- প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করে জাতিসংঘ মহাসচিবের শোক প্রকাশ
- গাইবান্ধায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
- কলাপাড়ায় মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভা
- কুমিল্লায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
- খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় নিউজার্সি বিএনপির দোয়া মাহফিল
- জবি ছাত্রদলের ২২২ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটি ঘোষণা
- ক্রিকেটারদের গেটের বাইরে আটকে রাখা হয়েছিল বলে দাবি তামিমের
- প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে থাই রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- হাদিকে গুলি : ৩ দিনের রিমান্ডে মোটরসাইকেল মালিক হান্নান
- ৯১ দশমিক ২৫ নম্বর পেয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় শীর্ষে শান্ত
- অবৈধ যান চলাচল বন্ধের দাবিতে মোংলায় বিক্ষোভ-সমাবেশ
- ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২১৯১ মামলা
- ঠাকুরগাঁওয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
- মির্জা আব্বাসের কাছে চাঁদা দাবি, ঢাকার আদালতে মামলা
- বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে ৩০০ নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি
ববিতার স্মৃতিতে গোলাপী এখন ট্রেনে...
রাস্তা থেকে নিঃশেষ জ্বলন্ত সিগারেট তুলে নিয়ে সুখটান দিলাম
আলাউদ্দীন মাজিদ
প্রিন্ট ভার্সন
এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ খবর