শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৭:৪৩
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৭:৪৭

গাংনীতে হত্যার পর সড়ক দুর্ঘটনা বলে প্রচারের অভিযোগ!

মেহেরপুর প্রতিনিধি:

গাংনীতে হত্যার পর সড়ক দুর্ঘটনা বলে প্রচারের অভিযোগ!
নিহতের পরিবার

গাংনী হিজলবাড়ি গ্রামে গম মাড়াই হপার মেশিনের চাকায় পিষ্ট করে আক্তারুল নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে সড়ক দুঘটনায় নিহত বলে প্রচার করার অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আক্তারুলের স্ত্রী সাহিনা বেগম। 

অপরদিকে মামলা তুলে নিতে প্রভাবশালী মহলের হুমকি-ধমকিতে নিরপত্তাজনিত কারণে গ্রাম ছাড়ার উপক্রম হয়েছে পরিবারটির।

নিহতর স্ত্রী সাহিনা বেগম বলেন, ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর হিজলবাড়ীয়া গ্রামের কামাল ও গোপালপুর গ্রামের বাহার আলী আমার স্বামী আক্তারুলকে সাথে নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার তালাশ নামক এলাকায় যায় গম মাড়াই হপার মেশিন কেনার জন্য যায়। মেশিন কিনে ফিরে আসার সময় গাংনী উপজেলা বাওট গ্রামের আব্দুল গনি ডিগ্রী কলেজের কাছে হপার গাড়ী থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মেরে ফেলে। পরে তার লাশ ফেলে রেখে হপার গাড়ী নিয়ে পালায় কামাল ও বাহার। 

তিনি আরো বলেন, কামাল ও বাহার আমার স্বামীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলে। তাছাড়া হপার কেনা নিয়েও তাদেও মধ্যে মতভেদ হয়েছিল। একারনে হয়তো তাকে তারা হত্যা করেছে।  

নিহতর ছেলে শাকিল হোসেন বলেন, ঘটনার দিন গাংনী থানার এসআই মকবুল হোসেন আমাদের বাড়ির কাছ থেকে আমাকে তুলে নিয়ে গাংনী থানায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি এজাহারে আমাকে ভয় দেখিয়ে জোর করে আমার স্বাক্ষর নেয়। এরপর আমাকে আমার বাবার রক্তাক্ত লাশ দেখিয়ে জানায়, তিনি  ট্রাকের ধাক্কায় মারা গিয়েছে।  

ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আব্দুল খালেক বলেন, গ্রামের সবাই জানে আসল ঘটনা কি তবে মুখ খুলছেনা কেউ। মামলা ও আপশনামা দেখলেই বুঝা যায় এটা হত্যা না দুঘটনা। 

সাহার বাটি ইপি চেয়ার ম্যান গোলাম ফারুক বলেন, এ ধরনের কোন আপোশনামার কথা আমার মনে পড়ছে না। আপোশনামায় চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর সমন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ঐ ওয়ার্ডের মেম্বারকে জিজ্ঞাস না করে কিছু বলতে পারবো না।  

অভিযুক্ত কামাল হোসেন বলেন, আমরা ৩ জন একই গাড়ীতে ছিলাম। কিন্ত আক্তারকে ট্রাকে ধাক্কা মারে।এসময় সে নিচে পড়ে গিয়ে তার মাথার উপর দিয়ে চাকা চলে যায়।

মামালার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাংনী থানার এসআই মকবুল হোসেন জানান, আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছিল অজ্ঞাত ট্রাকের বিরুদ্ধে। আমি সে মোতাবেক তদন্ত করেছি। বিভিন্ন সিসি টিভি ফুটেজসহ স্থানীয় বেশ কিছু সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করি। এখন যে বিষয়টি উঠে আসছে সে বিষয়ে আমার কোন কিছু জানা নেই।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য