শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৯:০২
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২২:২০

ধান ক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে দুর্বৃত্তের পিটুনিতে কৃষক নিহত

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

ধান ক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে দুর্বৃত্তের পিটুনিতে কৃষক নিহত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুর্বৃত্তের পিটুনিতে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুই কৃষক। রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত কৃষক মো. শাহাবউদ্দিন (২৬) কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ কাকারার মো. শাহ আলমের ছেলে। আহতরা হলেন, একই এলাকার বেলাল উদ্দিনের ছেলে মিনহাজ উদ্দিন (৩২) ও খলিলুর রহমানের ছেলে আবদুল মান্নান (৫০)। 

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত করতে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

কাকারার বাসিন্দা নিহত শাহাবউদ্দিনের ছোট ভাই রোকন উদ্দিন বলেন, আমার বড় ভাই অপর দুইজনকে সাথে নিয়ে রাতে নিকটস্থ সুরাজপুর এলাকায় নিজেদের চাষ করা জমির ধান ক্ষেতে সেচ দেয়া ও হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচাতে পাহারা দিতে প্রতি রাতের মতো যায়। 

এদিকে, রাত ১২টার দিকে বড় ভাইকে মোবাইলে ফোন দেওয়ার পর কান্নার শব্দ শুনতে পাই। পরে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর পরিবারের লোকজনসহ খোঁজ নিতে থাকি। রাতে খোঁজ না পাওয়ায় সকাল ৮টার দিকে ধান ক্ষেতের অদূরে তামাক ক্ষেতের মাঝে আমার ভাইসহ তিনজনকে এক রশিতে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আমার ভাই শাহাবউদ্দিন মারা গেলেও অপর দুইজনকে আহত অবস্থায় পাই। 

পরে থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত শাহাবউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত দুইজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

আহত মিনহাজ উদ্দিন বলেন, আমারা তিনজন মিলে সন্ধ্যায় ভাত খেয়ে ক্ষেতের ধান পাহারা দিতে যাই। রাত ১২টার দিকে ১০-১২ জন লোক কোনো কথা না বলেই রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বন্ধ করে তামাক ক্ষেতে ফেলে রেখে অন্যত্র চলে যায়। পরে শাহাবউদ্দিন মুখ থেকে রশি সরিয়ে ডাকাত বলে চিৎকার দিলে তারা দৌড়ে এসে লোহার রড়সহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আমাদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় শাহাবউদ্দিন মারা গেছেন।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য