শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ মে, ২০২০ ১৬:৪৬

করোনার অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে রাজবাড়ীতে ঘুড়ি উৎসব

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

করোনার অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে রাজবাড়ীতে ঘুড়ি উৎসব

করোনা ভাইরাসের কারণে স্থবীর গোটা বিশ্ব। করোনার ভয়াবহতায় বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা। সময়ের বিবর্তনে ছুটে চলা মানুষগুলো এখন ঘরবন্দী। বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিষন্নতায় ভুগছে মানুষ। 

করোনাভাইরাসের অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন বিকেলে রাজবাড়ীতে ঘুড়ি উৎসবে মেতে ওঠে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। পড়ন্ত বিকেলের হালকা বাতাসে বাঙালির ঐতিহ্য রঙিন ঘুড়িতে ছেয়ে যায় মেঘলা আকাশ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়েসের মানুষ মাঠে অথবা বাড়ির ছাদে ঘুড়ি ওড়ায়।

ঘুড়ির সুতো কাটাকাটি কিংবা দূর আকাশে ঘুড়ি পাঠানো। সন্ধ্যা বেলায় ঘুড়ির সাথে আলোকসজ্জা যেন করোনাকালীন ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করার এক সুস্থ্য অনাবিল প্রতিযোগিতা।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার গুপ্ত-লক্ষনদীয়া গ্রামের বিজন বৈরাগী বলেন, করোনাভাইরাসের পূর্বে বিকালে বন্ধুদের সাথে এক জায়গায় বসে মোবাইলের মাধ্যমে আড্ডা দেওয়া হতো। কিন্তু বিকালেতো বাইরে বের হওয়া নিষেধ, তাই বাড়্রির পাশে মাঠে সবাই মিলে ঘুড়ি ওড়াই।

বালিয়াকান্দি সদর উপজেলা স্কুল ছাত্র অনিল মিয়া বলেন, স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় সবসময় বাসায় বসে থাকতে হয়। তাই বিকালে স্কুল মাঠে বন্ধুদের সাথে ঘুড়ি ওড়াই। আমাদের সবার ভালো লাগে।

এদিকে, ঘুড়ির চাহিদা বাড়ার কারণে রাজবাড়ীর বিভিন্ন স্থানে জমে উঠেছে ঘুড়ি এবং নাটাইয়ের ব্যবসা। নিজ নিজ এলাকায় যাদের বানানো ঘুড়ি ওড়ে তারা প্রতিটি ঘুড়ি ২০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাঘিয়া গ্রামের ঘুড়ি বিক্রেতা প্রসনজিৎ বিশ্বাস বলেন, সবার ঘুড়িতো আর আকাশে ওড়ে না। স্ব স্ব এলাকায় যাদের ঘুড়ি ওড়ে তাদের কাছে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসে ঘুড়ি কিনে নিয়ে যায়। বর্তমানে ফেচো ঘুড়ি এবং বাক্স ঘুড়ির চাহিদা বেশি। ফেচো ঘুড়ির দাম ৩০০টাকা এবং বাক্স ঘুড়ির দাম ৬০০ টাকা করে বিক্রি করা হয়।

বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আকরাম শেখ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক অপরাধ সত্যিকার অর্থেই হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে বিকাল বেলা স্কুল মাঠে কিংবা খেলার মাঠে মোবাইলে আসক্ত থাকা কিংবা অবিভাভকের মোটরসাইকেল চালানো ছিলো তাদের অন্যতম একটি শখ। বর্তমানে সেগুলোর পরিবর্তে ঘুড়ি উৎসবে মেতেছে তরুনেরা। ফলে সামাজিক অপরাধ কমে এসেছে।

বালিয়াকান্দি নির্মল সাংস্কৃতিক একাডেমির অধ্যক্ষ উত্তম কুমার গোম্বামী বলেন, ঘুড়ি উৎসব বাংলা ঐতিহ্যের সাথে জড়িত। কয়েক বছর ঘরে রাজবাড়ীতে ঘুড়ি ওড়ানো প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে গিয়েছিলো। করোনাভাইরাসের কারণে বিকালে বাজারঘাট বন্ধ থাকার কারণে তরুন প্রজন্ম আবার ঘুড়ি উৎসব ফিরে পেয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, শুধু ঘুড়ি উৎসব-ই  নয় দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, এসব খেলা আবার ফিরিয়ে আনলে বাংলার সাংস্কৃতি আরো শক্তিশালী হবে।


বিডি-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর