শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ জুলাই, ২০২০ ১৫:২১

ইউএন’র পড়শীরা পানিবন্দী, ১৫ দিনেও মেলেনি সহায়তা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

ইউএন’র পড়শীরা পানিবন্দী, ১৫ দিনেও মেলেনি সহায়তা

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হাত দিয়ে বরাদ্দ যায় সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নের বানভাসী মানুষের কাছে। কিন্তু ইউএনও’র অফিসের মাত্র পাঁচশত গজ দূরে প্রায় শতাধিক পরিবার ১৫ দিন পানিবন্দী থাকলেও তাদের কাছে পৌঁছেনি কোন ত্রাণ সহায়তা। করোনায় কর্মহীন এসব পরিবার ওয়াপদা বাঁধের উপর ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবযাপন করলেও খোঁজ নেয়নি ইউএনও। ইউএনও ঘরের কাছের লোকের খোঁজ না নেয়ায় পানিবন্দী এসব মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

তারা বলছেন, পড়শী বিপদে পড়লে পড়শীর খোঁজ নেয়া ও সহায়তা করা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কিন্তু আমাদের ইউএনও সে দায়িত্বও মনে হয় ভুলে গেছেন! তবে ইউএনও বলছেন, আমার দায়িত্ব আছে, তাই সহায়তার দেয়ার চেষ্টা করছি। আশা করছি দুএকদিনের মধ্যে ত্রাণ দিতে পারবো। 

শহরের ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নেয়া বানভাসী সুরমা খাতুন জানান, প্রায় ১৫দিন যাবত হোসেনপুর ওয়াপদা বাঁধের নিচু এলাকায় প্রায় দেড়শত ঘরবাড়ী পানিতে তলিয়ে আছে। সবাই ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। করোনার কারণে কাজও ঠিকমত করতে পারছে না কেউ। কষ্টে থাকলেও কেউ আমাদের খোঁজ নিচ্ছে না। 

বয়োবৃদ্ধ মনিজা বেগম জানান, ইউএনও অফিস থেকে এদুল্লাহ দূরে আমরা বাঁধের উপর ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে মরার মতো পইড়্যা থাহি তাও ইলিফ তো দূরের কথা মনের ভুলেও ইউএনও কোনদিন দেখতে আহে নাই। অসুখ শরীর নিয়্যা দুমুঠো চালের জন্য ইউএনও’র বারান্দায় কতবার গেছি, তাও একমুঠো চালও দেয় নাই। আরো ওহেনকার ম্যানসে তাড়া দিছে। আবেগে বলেন, হুনি হাসিনা সরকার অনকে কিছু দেয় কিন্তু শরীরে অসুখ নিয়ে বাঁধের উপর থাকি কেউ আংগোরে দ্যাহে না। গরীবেক আসলে কেউ দ্যাইখপার পারে না। 

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসীম কুমার মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এসকল বানভাসী মানুষের জন্য আমার চিন্তা আছে, আমার দায়িত্বও আছে। কিন্তু এখনো সরকারী বরাদ্দ পাইনি। চেষ্টা চলছে, হয়তো দুএকদিনের মধ্যেই ত্রাণ সহায়তা দিতে পারবো। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর