শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ জুলাই, ২০২০ ১৮:১৯

৫ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ

কুড়িগ্রামে রাতের আধারে লক্ষাধিক টাকার সরকারি ইট চুরি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে রাতের আধারে লক্ষাধিক টাকার সরকারি ইট চুরি

কুড়িগ্রামের রাজারহাটের উমর মজিদ ইউনিয়নের বটতলী বাজারে হেরিংয়ের রাস্তার এক লাখ টাকার সরকারি ইট রাতের আধারে চুরি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে দুই পক্ষের অন্তত ৬জন।

এদিকে, ইট চুরির ঘটনা ও সঠিকভাবে ইটগুলোকে কাজে লাগাতে না পারায় এলাকাবাসীদের মধ্যে এখন দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। দুই পক্ষের মধ্যে গত কয়েকদিন যাবত চলছে চাপা উত্তেজনা। যে কোনও মুহুর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

আজ রবিবার পর্যন্ত ইটগুলোর কোন সুরাহা না হওয়ায় বটতলী বাজারের বাসিন্দারা সংঘর্ষ আতঙ্কে রয়েছেন। গত কয়েকদিন আগে উদ্ধার করা ইটগুলো আবারো চুরির পায়তারা করছে একটি গ্রুপ বলে এলাকাবাসীরা জানান।

এদিকে, ইট চুরির ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সম্প্রতি ৫ জনকে আসামি করে রাজারহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরও দুই পক্ষের মধ্যে চলছে ইট নিয়ে টানাটানি। 

অভিযোগে সূত্রে জানা যায়,গত ১৮ জুন বুধবার ভোর ৫ টার দিকে উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের বটতলী বাজারের চারমাথায় রাস্তার সরকারি ইট ছাব্বল দিয়ে খুঁড়ে তুলছিলেন একদল যুবক। তালুক সুবল গ্রামের কাশেম, নুর জামাল, তাজুল, রাজু ও সাদেকসহ ৫ জন গোপনে এসব ইট তুলে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল।

এসময় মৃত আকবর আলীর ছেলে মমিনুল ও আব্দুল কাদের বসুনিয়ার ছেলে রুমন বসুনিয়াসহ কয়েকজন যুবক তা উদ্ধার করতে বাধা দিলে চুরি করতে আসা যুবকরা তাদের উপর চড়াও হয়ে শাবল ও লাঠি দিয়ে বাঁধা দানকারীদের মারধর করতে থাকে। এ অবস্থায় বাধাদানকারী যুবকরা প্রাণে বাঁচতে বাজারের মমিনুলের দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

এরপর সেখানের তারা এসে মমিনুলের দোকান ভাঙচুর করে এবং দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আহত হয় দুই পক্ষের ৬ জন। এরপর সংবাদ পেয়ে চেয়ারম্যান উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে চোরাইকৃত ১২ হাজারের বেশি ইট উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী নুরানী মাদরাসা মাঠে রাখে। এরপরও সেখান থেকে তিনদিন পর গোপনে উল্লেখিত বিবাদিগণ ৪ থেকে ৫ হাজার ইট চুরি করে নিয়ে যায়। 

বটতলী বাজার জামে মসজিদ ও নুরানী মাদরাসার সভাপতি আব্দুল গফুর জানান, রাস্তার ইট যাতে কেউ অবৈধভাবে নিয়ে কোন কাজে লাগাতে না পারে সেজন্য আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেই। এখন সরকারি এসব ইট মাদরাসার কাজে নাকি মাঠের কাজে ব্যয় হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত চান এলাকাবাসী। 

এ ব্যাপারে উমর মজিদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান,ইটগুলো সরকারী সম্পত্তি। রাস্তার কাজ নতুন করে হওয়ার কারনে এগুলো রাস্তায় আর ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু কেউ চুরি করে তা বেহাত করতে চাইলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর রাতের আধারে যারা চুরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। 

এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ যোবায়ের হোসেন জানান,যাতে কেউ ইটগুলো নষ্ট কিংবা বেআইনীভাবে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য চেয়ারম্যানসহ বসে দ্রুততম সময়ে সমাধান করা হবে। 

 

বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর