শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ আগস্ট, ২০২০ ১৮:৩৭

আশুগঞ্জের গৃহবধূ খাদিজার নিখোঁজের রহস্য উন্মোচন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

আশুগঞ্জের গৃহবধূ খাদিজার নিখোঁজের রহস্য উন্মোচন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে গৃহবধূ নিখোঁজের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিল পুলিশ

হত্যার নাটক সাজিয়ে প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা খেলেন প্রেমিক যুগল। এর আগে হত্যাকাণ্ডের নাটক সাজাতেই নিজের চুল, ব্লেড ও কিছু রক্ত বাথরুমে ফেলে যান তিন সন্তানের জননী খাদিজা বেগম। ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর দক্ষিণ পাড়ায়। 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর আগে আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর দক্ষিণ পাড়ায় এলাকার হুমায়ুন কবীরের ছেলে সোহেলের সাথে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী সদর উপজেলার চিলিকূট এলাকার আবুল কাসেম মিয়ার মেয়ে খাদিজা বেগমের। কিন্তু সাত মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয় খাদিজার সাথে ফেনীর দাগনভূইয়ার ইয়ার নুরুল্লাহপুর গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে আনোয়ার হোসেনের সাথে। 

গত ২ আগস্ট বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় খাদিজা। পালিয়ে যাওয়ার সময় খাদিজা নিজের চুল কেটে, একটি ব্লেড ও কিছু রক্ত বাথরুমে পাশে রেখে বাড়ি থেকে চলে যায়। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় খাদিজার স্বামী সোহেল, শ্বশুর হুমায়ুন কবীর এবং শাশুড়ি হেলেনা বেগমকে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেয়। 

পরে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি বাসা থেকে আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খাদিজা জানান, গত ঈদুল ফিতরের পর কথিত প্রেমিক আনোয়ারের সাথে তিনি বিবাহ সম্পন্ন করেছেন। আর সেটি স্বামী সোহেল মিয়া জানতেন না। হত্যাকাণ্ডের রূপ দেয়ার জন্য নিজের মাথার চুল ও কোরবানির গরুর রক্ত ও ব্লেড রেখে যান। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সকালে খাদিজার স্বামী সোহেল মিয়া বাদী হয়ে প্রেমিক আনোয়ার হোসেন ও স্ত্রী খাদিজাকে আসামি করে আশুগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছে। সকালেই তাদের জেল-হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। 

এদিকে প্রেমিক আনোয়ার হোসেন জানান, খাদিজা বিবাহিত ও তার তিন সন্তান রয়েছে- এই বিষয়টি সে জানতো না। খাদিজা জানিয়েছিল সে অবিবাহিত। তবে হুজুর দিয়ে বিবাহ হলেও আদালতে গিয়ে বিবাহ করতে চাননি খাদিজা। পুলিশের কাছে আটক হওয়ার পর জানতে পারেন ভোটার আইডি কার্ডে স্বামীর নাম থাকায় সে আদালতে বিবাহ করতে রাজি হননি।

খাদিজা জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীর সংসার থেকে চলে গেছেন তিনি। আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদ মাহমদু জানান, বিষয়টি খুবই চাঞ্চল্যকর ছিল। তাদের জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/এজে


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর