শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট, ২০২০ ১৭:৫২
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০২০ ১৮:০৩

সাভারে বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভারে বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

একে তো মহামারি করোনাভাইরাসের তাণ্ডব, সেই সাথে দেশে শুরু হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা। ঢাকার সাভার ও ধামরাই উপজেলার ছয়টি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার ফলে উপজেলা দুটির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। সেই সাথে তলিয়ে যাচ্ছে চলাচলের সড়ক, ফসলি জমি, ঘরবাড়িসহ মাছের ঘের। এতে চরম বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ।

এছাড়া বন্যার পানির সাথে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কল-কারখানার বিষাক্ত কালো পানি বিভিন্ন শ্রমিক কলোনিতে ঢুকে পড়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শ্রমিকদের সাধারণ জীবনযাত্রা।

সাভার উপজেলার ভাকুর্তা, তেঁতুলঝোরা, কাউনদিয়া, স্বনির্ভর ধামসোনা ও শিমুলিয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চলগুলো বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ফলে ওইসব অঞ্চলের রাস্তাঘাট, বাজার, স্কুল, ফসলি জমি, মুরগির খামারসহ তলিয়ে গেছে মাছের ঘের। এতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয়রা। আর চলাচলেও পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। এছাড়া ধামরাই উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি উঠেছে বেশ কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকেও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাভার ও ধামরাই উপজেলার তুরাগ নদ, ধলেশ্বরী নদী, বুড়িগঙ্গা নদী, বংশী নদী, গাজীখালী নদী ও কাকিলাজানি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সাভার উপজেলার ভাকুর্তা, তেঁতুলঝোরা, কাউনদিয়া, স্বনির্ভর ধামসোনা ও শিমুলিয়া ইউনিয়ের বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলগুলো বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

সাভার উপজেলার শিমুলিয়ার ইউপির গোহাইলবাড়ি, গাজীবাড়ি, কান্ঠাপাড়া, কাছৈর, রণস্থল, স্বনির্ভর ধামসোনা ইউপির কাইচাবাড়ি, বাঁশবাড়ি, ডগরতলি, ধামসোনা, উনাইল, মাইঝাইল, গোপালবাড়িসহ বিভিন্ন অঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এসব অঞ্চলের মানুষ। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, পুকুরসহ মাছের ঘের, ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

তবে যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে দাাঁড়িয়েছে ছোট ছোট নৌকা। এসব নৌকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন করছেন এলাকাবাসী। শুধু তাই নয়, শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার অনেক শ্রমিক কলোনিতে বিষাক্ত কালো পানি ওঠে বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় বাসা পরিবর্তন করছেন অনেকেই। আর পানিবন্দী হয়ে দিনযাপন করছেন ১০ হাজারেরও অধিক পরিবার। 

আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার হারুন মণ্ডল জানান, আশুলিয়ার নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আশেপাশের ছোট ছোট জলাশয় প্লাবিত হয়েছে। জলাশয়ের কালো পানি আমাদের ঘরের ভেতরে চলে এসেছে। কয়েকদিন এ অবস্থায় ছিলাম। আজ পানি খাটের ওপর ওঠায় বাসা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছি।

সাভার উজেলার ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, আমাদের ধামসোনা অঞ্চলটির ভূমি অন্যান্য এলাকার তুলনায় একটু নিচু। সেই সাথে পাশ দিয়ে একটি নদীও বয়ে গেছে। নদীর পানি একটু বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার এক তৃতীয়াংশ পানির নিচে ডুবে গেছে। আমার এলাকার মানুষ জরুরি প্রয়োজনে এখন নৌকা দিয়েই বেশি চলাচল করছে।

আশুলিয়া থানা যুবলীগের সভাপতি কবির সরকার জানান, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে কাইচাবাড়ি, বাপাইল পশ্চিমপাড়া, শিমুলিয়া, গোহাইলবাড়ি, রণস্থল, কাছৈরসহ বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, মৎস্যজীবীদের বিভিন্ন মাছের ঘের। এতে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুর রিফফাত আরা বলেন, আমাদের কিছু কমিউনিটি ক্লিনিকের বারান্দায় পানি উঠেছে। এরপরও আমরা স্বাস্থ্য সেবা স্বাভাবিক রেখেছি। রোগীরা পানি ভেঙে ক্লিনিকে আসছে। আবার অনেকই এ অবস্থা দেখে ফিরেও যাচ্ছেন। তবে নৌকায় করে আমরা স্বাস্থ্য সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছি। 

সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. একরামুল হক বলেন, আমরা শুনেছি সাভারের কয়েকটি নদীর পানি অনেক বেড়েছে। এতে সাভারের নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। আমরা আমাদের সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেদের কাছে বন্যার পানির অবস্থা জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। তারা তথ্য দিলে বিস্তারিতভাবে জানাতে পারবো।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর