শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট, ২০২০ ১৯:৩০
আপডেট : ১৪ আগস্ট, ২০২০ ২০:০৯

যশোরে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে হতাহত; নাঈমের লাশের অপেক্ষায় মা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

যশোরে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে হতাহত; নাঈমের লাশের অপেক্ষায় মা

যশোরের পুলেরহাটে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নিহত তিন কিশোরের মধ্যে নাঈম হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের তালিবপুর পূর্বপাড়া গ্রামে। 

বৃহস্পতিবার রাতে টেলিভিশনে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে মারামারি ঘটনায় নিহতদের মধ্যে নিজের ছেলের নাম শুনে কান্নায় ভেঙে পরেন মা সান্তনা বেগম। এখন ছেলের লাশের অপেক্ষায় বসে আছেন তিনি। 

নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে কখন আসবে ছেলের মরদেহ তা নিয়েই বিলাপ করছেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। 

নাঈম হোসেন ওই এলাকার নান্নু প্রামানিকের ছেলে এবং দেউলী আলিয়া মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণির ছাত্র। নাঈম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অসামি হিসেবে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক ছিলেন।

পুলিশ জানান, চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের তালিবপুর পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষক শাহিনুর রহমানের সাড়ে ৬ বছরের মেয়ে সাদিয়া খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে সু-কৌশলে তাকে রাস্তার পার্শ্বে কলাবাগানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ওই শিশুকে ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। এ ঘটনায় সাদিয়ার বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ মামলার প্রধান আসামি নাঈমকে গ্রেফতার করে। আসামির বয়স কম হওয়ার কারণে বিজ্ঞ আদালত তাকে যশোহর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে স্থানান্তর করে। গত সাড়ে ৬ মাস ধরে নাঈম সেখানেই আছেন। মাঝে মধ্যে মুঠোফোনে বাবা-মার সঙ্গে কথা বলে কান্নাকাটি করতো। বলতো আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও।

কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে 'দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বাঁধলে' ঘটনাস্থলে নাঈম মারা যায়। নাঈমের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার মা-বাবা, ভাই-বোনসহ পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের মাতম সৃষ্টি হয়েছে। 

বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান বলেন, নাঈমের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা রয়েছে। বয়স কম হবার কারণে তাকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন আছে।  

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর