শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১২:০৮
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:১৬

কিশোরগঞ্জের হাওরে অস্বাভাবিক নৌকা ভাড়ায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পর্যটকরা

সাইফউদ্দীন আহমেদ লেনিন, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের হাওরে অস্বাভাবিক নৌকা ভাড়ায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পর্যটকরা
কিশোরগঞ্জের নিকলী বেড়িবাঁধ এলাকা

“বয়কট নিকলী, বয়কট মিঠামইন, বয়কট ইটনা, বয়কট অষ্টগ্রাম।” নারায়ণগঞ্জের শাওন নামে একজন ফেসবুকে এভাবেই বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলকে। প্রায় দুই লাখ সদস্যের ট্রাভেল গ্রুপ গ্রিন বেল্ট নিকলীতে তাদের ট্যুর বাতিল করেছে। বাতিল প্রসঙ্গে তারা ফেসবুকে লিখেছে, নিকলীতে এখনও পর্যটনবান্ধব কোন অবকাঠামো তৈরি হয়নি, বরং স্থানীয় নৌকা, লেগুনা-অটোরিকশা ও রেস্টুরেন্টগুলোতে অপেশাদার মনোভাব পর্যটন বিকাশের অন্তরায়।

বিশাল জলরাশি, অপরূপ সৌন্দর্য, যোগাযোগের সহজলভ্যতার কারণে পর্যটকদের আকর্ষণে পরিণত হয়েছিল কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চল। পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অস্বাভাবিক নৌকা ভাড়াসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধার অভাবে পর্যটকরা ক্রমশ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সম্প্রতি নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পর্যটকদের নৌকা ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে নিকলী টু মিঠামইন বড় নৌকা ৭ হাজার টাকা, মাঝারি নৌকা ৫ হাজার টাকা, ছোট নৌকা ৩ হাজার টাকা, নিকলী টু ছাতিরচর বড় নৌকা ৩ হাজার টাকা এবং মাঝারি ও ছোট নৌকা ২ হাজার টাকা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর পর্যন্ত নিকলী টু মিঠামইন বড় নৌকা এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল। পর্যটকদের ভিড় বাড়তে থাকায় ভাড়াও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় রেস্টুরেন্ট এবং অটোরিকশার ভাড়াও অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে হাওর ভ্রমণে পর্যটকদের মাঝে দেখা দিচ্ছে অনীহা।

জাহেদুল ইসলাম রণি নামে অপর একজন ফেসবুকে লিখেছেন, নিকলী, মিঠামইন, ইটনা, অষ্টগ্রাম ভ্রমণ বয়কট করা উচিত। হাওর পর্যটন বিকাশের নামে পর্যটকদের পকেট কাটা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়ার আহমেদ তুলিপ বলেন, আগে ভাড়া আরও বেশি আদায় করা হতো। ইউএনও এবং নৌকার মালিকদের সাথে কথা বলেই নৌকার এ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়া শুধু শুক্রবারের জন্য। অন্য সময় ভাড়া অনেক কম বলে তিনি দাবি করেন।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুদ্দিন মুন্না বলেন, আগে প্রতি শুক্রবারে প্রতিটি নৌকা ভাড়া ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতো। সদর ইউনিয়ন পরিষদ নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখন এর চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর