শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৪২
আপডেট : ২০ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৫৩

সন্তানেরর মুখে বিষ ঢেলে দিল পিতা

মেহেরপুর প্রতিনিধি

সন্তানেরর মুখে বিষ ঢেলে দিল পিতা

ওমর ফারুক (১৩) নামে এক শিশুর মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে শিশুটির পিতা। শিশু ওমর ফারুক গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে গাংনী উপজেলার সেওড়াতলা গ্রামে এঘটনা ঘটেছে। তবে শিশুর পিতা মুজিবর রহমান প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাকে এখনও গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তরুণ বলেন, শিশুটি মুখে বিষ দেবার প্রায় ৩/৪ ঘন্টা পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার শরীরের রক্তর সাথে বিষ মিশে গেছে।

ওমর ফারুকের মা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, গত একবছর আগে আমার স্বামী মুজিবর রহমান আমার ছেলে মেয়েকে কেড়ে নিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর থেকে আমি বাবার বাড়িতে ছিলাম। মাস দুয়েক আগে পলাশি পাড়া এনজিওতে শালিশির মাধ্যমে আমাকে আর অত্যাচার করবেনা বলে মুচলেকা দিয়ে নিয়ে আসে আমার স্বামী। এর কয়েক দিন পর থেকে আমাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন শুর করে। আমার শরিরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। সাথে সাথে আমাকেসহ আমার ছেলে মেয়েদের বিষ দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছিল। 

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে আমার ছেলে ওমর ফারুককে বাড়ি থেকে ক্ষেতে নিয়ে যেয়ে তার গলায় বিষ ঢেলে দিয়ে বাড়ি নিয়ে আসে। ছেলে এসে আমাকে বিষ খাওয়ানোর কথা বলে। এরপর আমাদের হুমকি দিয়ে বাড়িতে আটকিয়ে রাখে। পরে আমার বড় মেয়ে জোহুরা সুযোগ বুঝে ওমর ফারুকসহ আমাকে নিয়ে গাংনী স্বাস্থ্য কপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে আসে।

ওমর ফারুকের বড় বোন জহুরা খাতুন বলেন, আমার বিয়ে হয়ে বাচ্চা হয়ে গেছে। তার পরও আমার বাবা আমার মাসহ আমাদের নির্যাতন করে। আমাদেরকে আমার মার কাছে ভিড়তে দেয়না। আমার এক বোবা ভাই আছে তাকেও নির্যাতন করতে বাদ দেয়না। বাড়িতে পাড়া প্রতিবেশি কেউ আসলে তাদের সন্দেহ করে আমাদের নির্যাতন চালায়।

ওমর ফারুকের খালু আলমগীর বলেন, সাবিনা ইয়াসমিনের বাবা মা বেঁচে না থাকায় তাকে দেখার মতো কেউ নেই। তাই মুজিবর রহমান এদের ওপর অত্যাচার করলে কেউ কিছু বলে না। সে নতুন বিয়ে করার জন্য এদের সকলকে মেরে ফেলতে চায়। 

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে গাংনী থানার পুলিশের একটি দল হাসপাতালে এসেছিলো। তারা দেখে গেছে। আমিও থানায় যেয়ে ঘন্টা খানেক বসে ছিলাম। কিন্তু থানায় আমাকে পাত্তা না দেওয়ায় আমি অবশেষে চলে এসেছি।

গাংনী থানার ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা জানা, ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। শিশুটির পরিবার অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ

BP

আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর