শিরোনাম
প্রকাশ : ২ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৩:২৪
প্রিন্ট করুন printer

রায়পুরে দুই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক নেই ১১ বছর!

মো. মোস্তফা কামাল, রায়পুর

রায়পুরে দুই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক নেই ১১ বছর!

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দুটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রায় ১১ বছর ধরে চিকিৎসক না থাকার কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাম পর্যায়ের প্রান্তিক লোকজন। এ কারণে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের অতিরিক্ত চাপ বেড়ে চলেছে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, রায়পুর উপজেলার ১ নম্বর উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জ উপশহরে একটি ও ৭ নম্বর বামনী ইউনিয়নের সাইচা গ্রামে আরেকটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন করে এমবিবিএস চিকিৎসকের পদ থাকলেও প্রায় ১১ বছর ধরে এ পদগুলো খালি পড়ে আছে।

হায়দরগঞ্জ এলাকার রেজাউল করিম রনন বলেন, হঠাৎ ঠাণ্ডা ও শীতের প্রকোপে আমাদের পরিবারের দুজন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসা পাননি তারা। পরে বাধ্য হয়ে ১১ কিলোমিটার দূরে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ৩০০ টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিয়েছেন।

শুধু রেজাউল করিম নয়, এভাবে কয়েকটি গ্রামের লোকজন চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ১১-১২ কিলোমিটার দূরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়। অর্থ-সংকটের কারণে গ্রামের দরিদ্র লোকজন অনেক সময় চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ হন।

উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদ উল্যাহ বলেন, আমার ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রায় ১১ বছর ধরে কোনো ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার লোকজন। এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। সেখানে গিয়ে গ্রামের অনেকেই আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন না।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র দুটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ চিকিৎসক নেই। এ বিষয়ে প্রতি মাসেই সিভিল সার্জনকে অবগত করে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। ডাক্তার না থাকায় উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর প্রভাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেশি পড়ছে। তবে আশা করছি অচিরেই চিকিৎসক সংকট কেটে যাবে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর