শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:১৮
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:২০
প্রিন্ট করুন printer

সুন্দরবনে পুকুর পুন:খননে মিটবে প্রাণীদের মিঠাপানির চাহিদা

বাগেরহাট প্রতিনিধি

সুন্দরবনে পুকুর পুন:খননে মিটবে প্রাণীদের মিঠাপানির চাহিদা

সুন্দরবনে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়ানে ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮৮টি পুকুর খনন ও পুন:খনন কাজ শুরু হয়েছে। এসব পুকুরের মধ্যে ৭০টিতে নির্মান করা হচ্ছে পাকা ঘাট।

২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরে আনুষ্ঠানিক ভাবে পুকুর খনন ও পুন:খনন কাজের উদ্ধোধন করেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার তালুকদার। আগামী জুন মাসের মধ্যে এসব পুকুর খনন ও পুন:খননের কাজ শেষ হবে। 
                 
অনুষ্ঠানে উপমন্ত্রী জানান, 'বিশ্বের বৃহৎ জলাভূমির বন ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবী হরিণসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর দীর্ঘদিনের সুপেয় মিঠাপানির চাহিদা মেটাতে খনন ও পুন:খনন করা হচ্ছে ৮৮টি পুকুর। এছাড়াও, সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত এই লবণাক্ত বনভূমির এসব পুকুর বন্যপ্রাণীর দীর্ঘদিনের সুপেয় মিঠাপানির চাহিদা মেটানো পাশাপাশি সুন্দরবনে থাকা বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বনজীবী ও পর্যটকদেরও খাবার পানির চাহিদা মেটাবে।'

সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবী হরিণসহ বন্যপ্রাণীর আধিক্য রয়েছে এমন এলাকাগুলোতে এসব পুকুর খনন ও পুন:খননের কাজ আগামী জুন মাসের মধ্যে শেষ হলে বন্যপ্রানীগুলোকে আর লবনাক্ত পানি পান করতে হবে না। 

সুন্দরবনে খনন ও পুন:খনন কাজের উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে, খুলনা অঞ্চলেন বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. মইন উদ্দিন খান ও বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেনসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

সুন্দরবন বিভাগ জানায়, ম্যানগ্রোভ এই বনের বাংলাদেশ অংশের ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে মধ্যে থাকা পুকুরগুলো ঝড়-জলোচ্ছাসে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বছরের পর বছর ধরে বাঘ-হরিণসহ বন্যপ্রাণীগুলো সুপেয় পানি সংকটের মধ্যে ছিল। এই অবস্থায় বন বিভাগ সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবী হরিণসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে ৮৮টি পুকুর খনন ও পুন:খননসহ একই সাথে ৭০টি পুকুরের পাকা ঘাটও নির্মান করা হচ্ছে।

এসব পুকুরের মধ্যে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে শরণখোলা রেঞ্জের দুবলায় ২টি ও বগীতে নতুন করে ৩টি পুকুর খনন করা হচ্ছে। এই রেঞ্জের ২৪টি পুকুর পূন:খননের মধ্যে কচিখালী অভয়ারণ্যে ৪টি, কটকা অভয়ারণ্যে ৪টি, দুবলায় এলাকায় ৩টি, শরণখোলা রেঞ্জ সদরে ২টি, দাশেরভারানীতে ২টি। এছাড়াও, পুকুর পূন:খনন করা হচ্ছে ডুমুরিয়া, চরখালী, তেরাবেকা, শাপলা, ভোলা, শেলারচর, কোকিলমুনি ও সুপতিতে। 

চাঁপাই রেঞ্জে পুকুর পূন:খনন করা হচ্ছে ২৬টি পুকুরের মধ্যে রয়েছে ধানসাগরে ৩টি, গুলিশাখালীতে ২টি, আমুরবুনিয়ায় ২টি। একটি করে পুকুর পূন:খনন করা হচ্ছে চাঁদপাই, ঢাংমারী, লাউডোপ, জোংড়া, ঘাগড়ামারী, নাংলী, হরিণটানা, কলমতেজী, তাম্বুলবুনিয়া, জিউধরা, বরইতলা, কাটাখালী, শুয়ারমারা, মরাপশুর, বৈদ্যমারী, আন্ধারমানিক, হারবাড়িয়া, নন্দবালা ও চরাপুটিয়া। পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে খনন ও পুন:খনন করা হচ্ছে ৩৫টি পুকুর।

দিনরাতে ছয়বার রূপ বদলানো ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবন। সমুদ্রের জোয়ারের লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হওয়া সংরক্ষিত এই বনের ৩টি এলাকাকে ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ইউনেস্কো ৭৯৮তম ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড ঘোষনা করে। যা সমগ্র সুন্দরবনের ৩০ ভাগ এলাকা। এই বনে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুরসহ ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদরাজি রয়েছে।

এছাড়াও, ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও হরিণসহ ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, কুমির, গুইসাপ, কচ্ছপ, ডলফিন, অজগর, কিং কোবরাসহ ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৩১৫ প্রজাতির পাখি রয়েছে। ইতিধ্যেই প্রতিক’ল পরিবেশে সুন্দরবন থেকে হারিয়ে গেছে ১ প্রজাতির বন্য মহিষ, ২ প্রজাতির হরিণ, ২ প্রজাতির গন্ডার, ১ প্রজাতির মিঠা পানির কুমির। 

 

বিডি প্রতিদিন/ অন্তরা কবির
 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর