শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল, ২০২১ ১৫:২৯
প্রিন্ট করুন printer

এইখানে এক নদী ছিলো!

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

এইখানে এক নদী ছিলো!

সুখদহ নদী। হারিয়ে যেতে চলেছে বগুড়ার  ইতিহাস থেকে। যমুনা বাঙালী এবং সুখদহ নদী বিধৌত সারিয়াকান্দির পলি দোআঁশ মাটি কৃষকদের সোনার ফসল ফলিয়ে দেয়। তিনটি নদীর মধ্যে যমুনা নদী ভরা মৌসুমে প্রবল বন্যাসহ তার খরস্রোতা রূপ প্রদর্শন করলেও বর্তমানের শুকনো নদী দেখে তার প্রমত্তা রূপ বুঝা খুবই কঠিন।

অপরদিকে বাঙালী নদীতে শুধুমাত্র বর্ষার মৌসুমে বন্যার পানি থাকলেও সারাবছর শুকনো থাকে। সারিয়াকান্দির নারচী এবং ফুলবাড়ী ইউনিয়ন দিয়ে বয়ে যাওয়া সুখদহ নদীটি বিভিন্ন জায়গায় ভরাট হয়ে সারিয়াকান্দির ইতিহাস হতে মুছে যেতে চলেছে।

সুখদহ নদীটি স্থানীয় পর্যায়ের এবং ঋতুভিত্তিক সচল থাকে। গাবতলী থানার বালিয়াদিঘী ইউনিয়নস্থ বালিয়াদিঘী মৌজা থেকে বেরহয়ে উত্তর পূর্ব দিকে কিছুদূর অগ্রসর হয়ে সারিয়াকান্দি থানায় প্রবেশপূর্বক উত্তর পূর্ব দিকে কিছুদূর অগ্রসর হয় এবং গাবতলী থানার দুর্গাহাটা ইউনিয়নস্থ দুর্গাহাটায় পুনরায় প্রবেশ করে উত্তর পশ্চিমে কোনাকুনি দুই মাইল প্রবাহিত হয়ে আবার সারিয়াকান্দি থানার ফুলবাড়ি মৌজা হয়ে নারচী ইউনিয়নস্থ নারচী, পরবর্তীতে বাঙালী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। নদীটি আনুমানিক ৮/১০ মাইল দীর্ঘ এবং এর তীরে নারচী একটি পুরাতন জনপদ অবস্থিত। বর্তমানে নদীটি ফুলবাড়ির নিকট একটি খালে পরিণত হয়েছে।

উপজেলার নারচী ইউনিয়নের সাখাওয়াত হোসেন ছকো বলেছেন, সুখদহ নদী তার আগের প্রমত্তা রুপ হারিয়ে ফেলেছে। নদীটির অল্প কোন কোন যাওয়ায় এখন হাটুপানি রয়েছে। নদী তো নয় এটি এখন খালে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন যায়গায় বেড়া দিয়ে নদীটির বিভিন্ন স্হানে মাছ চাষ করা হচ্ছে।

ফুলবাড়ী গমির উদ্দিন বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্তেজার রাহমান বলেন, নদীটির দুইপাড় প্রভাবশালী দখলদাররা মাটি দিয়ে ভরাট করে বসতবাড়ি দোকানপাটসহ বিভিন্ন ধরনের আস্তানা গড়ে তুলেছে। ফুলবাড়ী বাজারের উত্তর এবং দক্ষিণ পূর্ব পাশের প্রায় কয়েক কিলোমিটার নদীপাড় দখল করেছে দখলদাররা। ফলে এক সময়ের গভীর সুখদহ নদী তার নাব্যতা হারিয়েছে।

ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুত তারিক মোহাম্মদ বলেছেন, সুখদহ নদীটি আমাদের ইউনিয়নের একমাত্র ভরা যৌবনা নদী ছিল। এ নদীটি পারাপারের জন্য খেয়া ছিল, পাল তুলে ছুটত রকমারি মালবাহী পালতোলা নৌকা। সময়ের প্রয়োজনে কৃষকরা ভরাট করে ফসল ফলাচ্ছে। অপরদিকে দখলদাররা নানাভাবে নদীটি ভরাট করে ফেলছে।
নদিটি খনন অথবা নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে দিতে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপের দাবী জানিয়েছেন উপজেলার হাটফুলবাড়ী ইউনিয়নের সচেতন সাধারণ জনগণ।

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন

এই বিভাগের আরও খবর