শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ জুন, ২০২১ ১০:০৬
প্রিন্ট করুন printer

অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক ব্যবহারে পরিবেশ বিপর্যয়

উপকূলীয় নদী ও খালে ফেলা হচ্ছে অপচনশীল বর্জ্য

বরগুনা প্রতিনিধি

অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক ব্যবহারে পরিবেশ বিপর্যয়
Google News

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। সারা বিশ্বের সাথে বাংলাদেশেও আজ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় জেলা বরগুনার প্রতিটি নদী ও প্রবাহমান খালে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে প্লাস্টিক, পলিথিন এবং অপচনশীল বর্জ্য! এক একটি প্লাস্টিকের মাটির সাথে মিশতে সময় লাগে কমপক্ষে ৫০০ বছর। 

বরগুনার বিষখালী, বুড়ীশ্বর (পায়রা) খাকদন, বলেশ্বরসহ বঙ্গোপসাগরে ভাসছে টনটন প্লাস্টিক বোতল, পলিথিনসহ চিকিৎসায় ব্যবহৃত উচ্ছিষ্ট। এই সকল প্লাস্টিক, পলিথিন, অপচনশীল বর্জ্য পদার্থ পানিকে দূষিত করাসহ জমির উর্বরতা শক্তি কমিয়ে দিচ্ছে। একই সাথে উপকূলীয় পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। নদী ও খাল ইতোমধ্যে ভরাট হয়ে স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভাটার সময় স্তুপ হয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায় এই সকল অপচনশীল দ্রব্য।

বরগুনার বিষখালী, খাকদন, বরগুনার ভাড়ানীখাল ছাড়াও জেলার তালতলী,  আমতলি, বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটার বিভিন্ন খালে অবাধে ফেলা হচ্ছে এসব পলিথিন-প্লাস্টিক। 

এছাড়াও অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক ব্যবহারে ভরাট হচ্ছে খাল, নদী, সাগর পর্যন্ত। পানিদূষণের পাশাপাশি নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পড়েছে হুমকির মুখে। খালের তলদেশে জমছে পলিথিনের স্তর। পানি ও খাল দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির মাছ ও জলজপ্রাণি।

ইউনিয়ন পর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, কোথায়ও বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় যেখানে পারছে বর্জ্য ফেলছে। বিভিন্ন হাট বাজারে ছড়িয়ে আছে প্লাস্টিকের পানির বোতল,পলিথিন। এই সকল অপচনশীল বর্জ্যে এলাকায় খাল ও ডোবায় ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে জমতে থাকা অপচনশীল এসব বর্জ্যরে জন্য ভরাট হয়ে যাচ্ছে ছোট ছোট খাল। চরমভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক  মুশফিক আরিফ বলেন, 'বর্জ্য পলিথিন-প্লাস্টিক আবর্জনায় পানিতে ফেলার জন্য উপকূলের খাল বিল নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে খালের নাব্যতা হারিয়ে গেছে। প্রাকৃতিক ভাবে আমরা যে মৎস্য সম্পদ পেতাম সেই মৎস্য সম্পদ আজ আমাদের নেই। পরিবেশবিদ হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। আগামী ১০ বছরে এই খাল-বিল নাব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়ে চর পরে যাবে। আমরা পরিবেশ কর্মীরা সরকারের কাছে আবেদন জানাই, বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার যে সকল খাল-বিলগুলো আবর্জনায় নাব্যতা হারিয়েছে সেগুলোকে পুনঃখননকরে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার।'

তিনি আরও বলেন, 'পরিবেশ অধিদফতরের বরগুনা জেলায় নিজস্ব কোন অফিস না থাকায়, বরিশাল ও পটুয়াখালী থেকে এসে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়াও পলিথিনের বিষয়ে দোকানে অভিযান না চালিয়ে পলিথিনের বিকল্প উৎপাদনে আরও নজর দেওয়া উচিত।' 

 

বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির 

এই বিভাগের আরও খবর