শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ জুন, ২০২১ ১৬:০১
প্রিন্ট করুন printer

হারিয়ে যাচ্ছে বাউঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

হারিয়ে যাচ্ছে বাউঙ্কা
Google News

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-গঞ্জ, শহরে-বন্দরে ফেরি করে বিক্রির প্রধানতম উপাদান বাঁশের বাউঙ্কা। বাঁশের তৈরী বাউঙ্কার দুপাশে দঁড়িতে ঝুলিয়ে ঘাড়ে নিয়ে ফেরি করে পণ্য বিক্রি করত ফেরিওয়ালা। এক সময় বাউঙ্কা ঘাড়ে ফেরিওয়ালার ডাকের অপেক্ষায় থাকত ছেলে, বুড়োসহ গৃহিনীরা। 

কখন বাউঙ্কা ঘাড়ে ফেরিওয়ালা আসবে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে। হাড়ি-পাতিল, খেলানা,খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্য প্রয়েজনীয় প্রায় সব জিনিসই বিক্রি হত বাউঙ্কায় করে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে ২৮ মার্চ হাজার হাজার জনতা তীর-ধনুক, লাঠি- বল্লম ও বাউঙ্কা নিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করেছিল। 

বাউঙ্কা আজ অতিত হতে বসেছে। যান্ত্রিকতার ছোঁয়ায় বাউঙ্কার পরিবর্তে ফেরিওয়ালার কাছে এসেছে অটো-ভ্যান ইত্যাদি। এরপর কেউ কেউ পূর্বপুরুষের এতিহ্য হিসেবে এখনো ধরে রেখেছেন বাউঙ্কা। তেমনি একজনের সন্ধান পাওয়া গেল রংপুরের পীরগঞ্জে। 

পীরগঞ্জের কেশবপুর গ্রামের মৃত তসের উদ্দিনের ছেলে গোলাপ মিয়া। প্রায় ৩৫ বছর ধরে কাঁধে  বাউঙ্কায় করে টক দই বিক্রি করছেন। ছোটকাল থেকেই তিনি ওই ব্যবসা করছেন। সারা বছরই দই বিক্রি করে সংসার চালান। সম্প্রতি তার সাথে কথা হয় পীরগঞ্জ উপজেলা সদরে। তিনি বলেন, 'বাউঙ্কা এই অঞ্চলের ঐতিহ্য।  তাই বিকল্প কোন বাহনে ফেরি না করে বাউঙ্কাকেই ধরে রেখেছি।'
 
কবি বাদল রহমান বাউঙ্কা প্রসঙ্গে বলেন, 'বাঁশের তৈরী এই বাউঙ্কা নিয়ে এ অঞ্চলে অনেক ভাওয়াইয়া গান রচিত হয়েছে। কবিরাও তাদের কবিতায় বাউঙ্কা শব্দটি ব্যবহার করত। কালের বিবর্তনে অনেক কিছুর সাথে বাউঙ্কাটিও হারিয়ে যাচ্ছে।'

 

বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির 

এই বিভাগের আরও খবর