শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ জুন, ২০২১ ১৬:৪৪
প্রিন্ট করুন printer

মধ্যপাড়া পাথর খনি; ৭ বছরে সাড়ে ৪৮ লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

মধ্যপাড়া পাথর খনি; ৭ বছরে সাড়ে ৪৮ লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন
Google News

করোনাসহ বিভিন্ন কারণে উত্তোলন বন্ধ থাকার পরেও দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনিতে গত ৭ বছরে প্রায় সাড়ে ৪৮ লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন হয়েছে। প্রতিদিন বিক্রির পর বর্তমানে  মজুদ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। 

শুরুর দিকে লোকসানে থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) কর্তৃক তিন শিফটে পাথর খনি থেকে রেকর্ড পরিমানে পাথর উত্তোলন এবং বিক্রির ফলে খনিটি পর পর তৃতীয় বারের মত লাভের মুখ দেখেছে। গত ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরে খনিটি মুনাফা করেছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা এবং চলতি অর্থ বছরেও খনিটি লাভজনক হবে বলে খনি কর্তৃপক্ষ আশা করেেছন। এছাড়াও পাথর বিক্রির উপর সরকারে ট্যাক্স ভ্যাট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে কয়েক কোটি টাকা।

খনি সূত্র জানায়, গত ২০০৭ সালের ২৫ মে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পাথর উত্তোলন শুরু করে মধ্যপাড়া পাথর খনি কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক অসন্তোষ, ধর্মঘটসহ বিভিন্ন সমস্যায় ৩১০ জন দেশীয় খনি শ্রমিক দিয়ে প্রতিদিন এক শিফটে পাথর উত্তোলন করে দীর্ঘ ৭ বছরে মাত্র ২০ লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে খনি কর্তৃপক্ষ। মাইন পরিচালনা ব্যয় এবং বিক্রির চাহিদা অনুযায়ী পাথর উত্তোলন না হওয়ায় ওই সময় কয়েকশত কোটি টাকা লোকসানে পাথর খনিটি বন্ধের উপক্রম হয়। খনিটিকে সচল রাখতে বর্তমান সরকার ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৪০০ কোটির টাকা ব্যয়ে খনির উৎপাদন, রক্ষনাবেক্ষন ও ব্যবস্থাপনা এবং পরিসেবার  একটি আর্ন্তজাতিক ৬ বছর মেয়াদের চুক্তি করে বেলারুশ ভিত্তিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) সাথে।

জিটিসি’র সাথে চুক্তির মেয়াদকালে খনির কাজে অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ সময়মতো আমদানী করার অনুমোদন না দেওয়া অর্থাৎ দুইবছর বিলম্ব করায়, খনি কার্য পরিচালনার জন্য অপরিহার্য ড্রইং ডিজাইন অনুমোদনে এমজিএমসিএল কর্তৃক ২ বছর বিলম্বের কারণে এবং খনির একটি দুষ্টু চক্রের এবং করোনা পরিস্থিতিসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধকতায় খনির উন্নয়ন ও উৎপাদন কাজ দীর্ঘ প্রায় ৩ বছর বন্ধ থাকে। এরপর বাকী ৩ বছরে জিটিসি কর্তৃক পাথর উত্তোলন করে সাড়ে ৩৭ লাখ মেট্রিক টন। 

জিটিসি’র সাথে ৬ বছরের চুক্তির মেয়াদ গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারীতে শেষ হয়েছে। মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করলেও বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে কয়েক দফা দরপত্রের তারিখ পেছানো হয়। বর্তমানে বর্ধিত সময়ে আগামী ১৭ জুন দরপত্র কেনার শেষ দিন এবং ২০ জুন দরপত্র খোলার শেষ দিন নির্ধারিত করা হয়েছে। যা কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে। 

এদিকে, নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়ায়  মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখার স্বার্থে জিটিসি’র সাথে চুক্তির মেয়াদ ১ বছর বাড়ানো হয়। যার মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর। 

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি’র মহাব্যবস্থাপক (ইউজিওএন্ডএম) আবু তালেব ফরাজী বলেন, কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানায় করোনায় কোনো সমস্যা হয়নি এখানে। খনি থেকে গড়ে প্রতিদিন পাথর উত্তোলন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার মে.টন এবং বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার মে.টন। এপর্যন্ত খনির বিভিন্ন ইয়ার্ডে মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার মে.টন পাথর। গত দুইবছর থেকে খনিটি লাভজনক রয়েছে এবং অব্যাহত থাকবে আশা করা যায়। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর