শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ জুন, ২০২১ ২২:১০
প্রিন্ট করুন printer

অর্থ আত্মসাতে সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন তৌহিদসহ ৯ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

অর্থ আত্মসাতে সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন তৌহিদসহ ৯ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
ডা. তৌহিদুর রহমান
Google News

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মালামাল ক্রয় ও সরবরাহের নামে ১৬ কোটি ৭১ লাখ ৩২ হাজার ২২২ টাকা আত্মসাতের মামলায় সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানসহ নয়জনকে দেশত্যাগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ মফিজুর রহমান এ আদেশ দেন।

নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত  আসামিরা হলেন সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান, সিভিল সার্জন অফিসের সাবেক হিসাব রক্ষক আনোয়ার হোসেন, স্টোর কিপার একেএম ফজলুল হক, ঢাকার তোপখানা রোড সেগুন বাগিচার মেসার্স বেঙ্গল সায়েন্টিফিক এন্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির স্বত্তাধিকারী জাহের উদ্দিন সরকার, নয়াপল্টনের মেসার্স মাকেন্টাইল ট্রেড ইন্টার ন্যাশনালের স্বত্তাধিকারী ও অংশিদার আব্দুর ছাত্তার সরকার, একই এলাকার মেসার্স মাকেন্টাইল ট্রেড ইন্টার ন্যাশনালের স্বত্তাধিকারী ও অংশিদার আহসান হাবিব, ইউনিভার্সেল ট্রেড কর্পোরেশনের স্বত্তাধিকারী আসাদুর রহমান, মেসার্স মাকেন্টাইল ট্রেড ইন্টার ন্যাশনালের ম্যানেজার কাজী আবু বকর সিদ্দীক ও মহাখালী নিমিউ এন্ড টিসির অবসর প্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী এএইচএম আব্দুস কুদ্দুস।

সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. আসাদুজ্জামান দিলু জানান, সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ তৌহিদুর রহমানসহ নয়জন অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির আশ্রয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক চিকিৎসা সংক্রান্ত মালামাল ক্রয় ও সরবরাহের নামে তিনটি বিলের বিপরীতে মোট ১৬ কোটি ৭১ লাখ ৩২ হাজার ২২২ টাকা সাতক্ষীরা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে তিনটি চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি সাধনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের নেতারা দোষীদের গ্রেফতার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। তারা ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস ঘেরাও করেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও দুদক চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

দুদকের প্রধান কার্যালয় ঢাকার সেগুনবাগিচার তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক ও বর্তমান সহকারী পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন দুদকের অনুমোদন সাপেক্ষে ২০১৯ সালের ৯ জুলাই সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে  দুর্নীতি দমন কমিশন খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আসামিরা হাইকোর্টের নির্দেশে কয়েক দফায় সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে হাজির হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করার পর জামিনে মুক্তি পান। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে এজাহারভুক্ত সকল আসামির বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪০৯/ ১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। 

অ্যাড. আসাদুজ্জামান দিলু আরো জানান, মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ন্যয় বিচারের স্বার্থে আসামিরা যাতে দেশত্যাগ না করতে পারে সেজন্য গত ৯ জুন সংশ্লিষ্ট আদালতে একটি আবেদন করেন। গত ১৬ জুন ভার্চুয়াল আদালতে ওই আবেদনের শুনানি হয়। শুনানী শেষে বিচারক শেখ মফিজুর রহমান তদন্তকারি কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করেন এবং ২৩ জুন বুধবার তিনি এ সংক্রান্ত আদেশের কপি হাতে পান। 

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন

এই বিভাগের আরও খবর