শিরোনাম
প্রকাশ : ৩১ জুলাই, ২০২১ ১৮:২১
প্রিন্ট করুন printer

নাটোর থেকে ঢাকামুখী কর্মজীবীদের অমানবিক যাত্রা

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোর থেকে ঢাকামুখী কর্মজীবীদের অমানবিক যাত্রা
Google News

আগামীকাল রবিবার থেকে গার্মেন্টসসহ রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা খোলার সরকারি নির্দেশনা জারির পর ঢাকাগামী কর্মজীবীদের চাপ বেড়েছে। 

শনিবার ভোর থেকে নাটোর শহরের হরিশপুর মোড়, বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাস মোড়, থানার মোড় ও রাজ্জাকের মোড়ে যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। 

যাত্রীবাহী বাস বন্ধ থাকায় বিভিন্ন ধরনের ট্রাক ও মাইক্রোবাসে ঠাসাঠাসি করে কর্মস্থলে ফিরছেন হাজার হাজার কর্মজীবী নারী-পুরুষ। অনেকের সাথে রয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যরা। জীবিকার প্রয়োজনে কর্মজীবীদের এ যাত্রা যেন অমানবিক, অস্বস্তিকর ও অস্বাস্থ্যকর যাত্রা।

করোনাকালীন পরিস্থিতির কারণে দেশে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যার ফলে যাত্রীবাহী পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এদিকে, কাল থেকে গার্মেন্টস সহ শিল্প-কারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণায় চাকরিজীবী কর্মীরা ছুটছেন রাজধানী ঢাকাসহ আশে-পাশের শিল্পাঞ্চল জেলাগুলোতে। যে যেভাবে পারছেন কর্মস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। শিশু, নারীসহ বিভিন্ন বয়সী যাত্রীরা দীর্ঘপথ পারি দিতে চড়ে বসছেন বিভিন্ন ধরনের ট্রাক, সিএনজি, ভটভটি, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার এমনকি মোটরসাইকেলে। যানবাহনের প্রকারভেদে বনপাড়া থেকে গাজীপুর বাইপাল ও চন্দ্রা পর্যন্ত ভাড়া জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা ও সর্বনিম্ন ৮০০ টাকা।

বিধি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্মস্থলে ফিরতে কর্মজীবীরা যেমন গুনছেন মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া, তেমনি পোহাচ্ছেন দুর্ভোগ। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধির মানার দিকে বিন্দুমাত্র নজর না থাকায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন তারা।

এদিকে, যাত্রী পরিবহন ও মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া নিয়ন্ত্রণসহ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে বাসস্ট্যান্ডসহ মহাসড়কে দেখা যায়নি কোনো পুলিশ বা প্রশাসনের কাউকে। ফলে যাত্রী পরিবহনের পুরো নিয়ন্ত্রণ পরিবহন শ্রমিকদের হাতে এবং এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যাত্রীরা।

ঢাকাগামী ট্রাকে যাত্রীদের কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, জীবিকার প্রয়োজনে ছেলে-মেয়ে, স্ত্রীকে নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছি। গাজীপুরের বাইপাল পর্যন্ত যাওয়ার জন্য জনপ্রতি ৮০০ টাকা ভাড়া দিয়ে ট্রাকে উঠেছি। সারা পথ দাঁড়িয়ে যেতে হবে।

এদিকে, বৃষ্টি থেকে রক্ষা ও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে মাথার উপর দেওয়া হবে ত্রিপল। ভিতরে কমপক্ষে ৭০ জন যাত্রী রয়েছে। এমতাবস্থায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি কি রকম তা আর বলার অপেক্ষা থাকে না। সরকার গার্মেন্টস সহ শিল্প-কারখানা খুলে দেয়ার আগে গণপরিবহন স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দিলে এ ভোগান্তি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি আর থাকত না।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

এই বিভাগের আরও খবর