৭ অক্টোবর, ২০২১ ১৪:১৬
আসামি ঠিক করা হয় আগে

আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে ভাতিজাদের ফাঁসাতে মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লা প্রতিনিধি

আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে ভাতিজাদের ফাঁসাতে মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজাদের ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেন বাবা। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর। তিনি জানান, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের সোলেমান জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজাদের ফাঁসাতে তার মেয়ে সালমা আক্তারকে (১৪) গত ১ অক্টোবর হত্যা করেন।

এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন সোলেমান ও তার দুই ভাইসহ সাতজন। পরে গত ২ অক্টোবর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে সালমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে মেয়ে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন সোলেমান।

জানা যায়, মাদরাসা ছাত্রী সালমাকে হত্যার কয়েকদিন আগে নিজেদের কাউকে আহত করে ভাতিজাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় কি-না তা নিয়ে এক আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করেন সোলেমান। এ কাজে সহায়তা করেন সোলেমানের উকিল শ্বশুর আবদুর রহমান। আবদুর রহমান সম্পর্কে সালমার নানা হন। হত্যাকাণ্ডের দিন আবদুর রহমানের বাড়িতে মিটিং হয়। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা হয়, পরিকল্পনা করা হয় কাকে কাকে হত্যা মামলার আসামি করা হবে তা নিয়েও। কিন্তু মা ও বাকি সন্তানদের সামনে সালমাকে হত্যা করা যাবে না-এ চিন্তা থেকে খুব কৌশলে স্ত্রী ও দুই ছেলে, এক মেয়েকে নিজের শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়ে দেন সোলেমান। সালমা রান্নাবান্না করবে, এমন কারণ দেখিয়ে তাকে বাড়িতে রেখে দেওয়া হয়। আবদুর রহমানের বাড়িতে পরিকল্পনা করে রাতের কোনো এক সময় ঘরে প্রবেশ করেন সোলেমান ও অন্যান্য খুনিরা।

আসামিদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর জানান, প্রথমে শ্বাসরোধ করা হয় সালমার। তারপর এলোপাতাড়ি গলা, পেট, কাঁধ ও পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় সোলেমান নিজেও অস্ত্র দিয়ে মেয়েকে আঘাত করেন। তাছাড়া সোলেমানের দুই ভাই লোকমান ও বাতেন, প্রতিবেশী আবুল হোসেন, মূল পরিকল্পনাকারী আবদুর রহমান, প্রতিবেশী শফিউল্লাহ ও সোলেমানের বন্ধু খলিল হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। হত্যাকাণ্ডের পর সোলেমান ও হত্যাকারীরা সোলেমানের ঘরের বেড়া কেটে নেন। হত্যাকাণ্ডের চারদিন পর সালমার বাবা সোলেমানকে গলায় ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশের ধারণা ঘটনাকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে নিজের গলায় নিজে ছুরি চালান সোলেমান। মাত্র সাত শতক জায়গার বিরোধ নিয়ে ভাতিজাদের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকে এমন ঘটনা ঘটে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর জানান, এমন নৃশংস ঘটনার মুখোমুখি আগে কখনো হইনি। এ ঘটনায় মেয়ে সন্তানের প্রতি সমাজে এখনো প্রচুর আক্রোশ আছে, তা প্রতীয়মান হয়।

হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আবদুর রহমান ও সোলেমানের বন্ধু খলিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। নতুন মামলার বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। পিতা সোলেমান চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর