২৪ অক্টোবর, ২০২১ ১৭:০৬

ফরিদপুরে ইউপি নির্বাচন নিয়ে খুনের ঘটনায় আটক ১৫

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে ইউপি নির্বাচন নিয়ে খুনের ঘটনায় আটক ১৫

ফরিদপুরের সালথায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালে আরো বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার নারী ও শিশুরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সংঘর্ষের সময় পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। আর মারিজ নিহতের ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

সরেজমিনে রবিবার সকালে ঘটনাস্থল সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সংঘর্ষে নিহত মারিজ শিকদারের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ৯ ভাই-বোনের মধ্যে মারিজ ছিল মেজো। তার স্ত্রীর নাম জুই আকতার। মুসলিমা ইসলাম নামে তাদের মাত্র দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। 

মারিজের বোন শিল্পী বলেন, মারিজ অন্যের জমিতে কাজ করে তার সংসার চালাতো। এখন কিভাবে চলবে ওর সংসার। কে দেখবে ওর স্ত্রী-সন্তানকে। অকালে এভাবে আমার ভাইয়ের হত্যার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমি আমার ভাই হত্যার সঠিক বিচার চাই।     

এদিকে, সংঘর্ষে মারিজ নিহত হওয়ার ঘটনায় খারদিয়া এলাকায় একাধিক বাড়িঘরে ব্যাপক তাণ্ডব চালানোর চিত্র দেখা যায়। 

স্থানীয়রা জানান, মারিজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সংঘর্ষ শেষে একটি পক্ষের পুরুষ সমর্থকরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই সুযোগে শনিবার সারারাত ও রবিবার সকালে তাদের বাড়িতে দফায় দফায় হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। ভাংচুর করা হয় যদুনন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়া, সংসদ উপনেতার সাবেক এপিএস আবু বক্কর সিদ্দিকী, ইউপি সদস্য ইমরুল খান ও তোরাপ হোসেনের বাড়িঘরসহ অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি বসতঘর। গুড়িয়ে দেওয়া হয় এসব ঘরে থাকা আসবাবপত্র। লুটপাট করা হয় গরু-ছাগলসহ ঘরের মালামাল। বর্তমানে ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে সময় পার করছে এসব বাড়ির নারী ও শিশুরা।

সালথা থানার ওসি মো. আশিকুজ্জামান বলেন, শনিবার বিকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। সংঘর্ষের সময় পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, এলাকায় উত্তেজনা থাকায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রব মোল্যা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তার বিপরীতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কর্মী গ্রাম্য মাদবর মো. রফিক মোল্যা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নুরজ্জামান ওরফে টুকু ঠাকুর। রফিক মোল্যা ও নুরজ্জামান টুকু ঠাকুর খারদিয়া এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে একই দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তাদের বাড়িও একই গ্রামে। গত এক মাস আগে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে রফিকের কাছ থেকে আলাদা হয়ে নুরজ্জামান টুকু ঠাকুর। এরই জের ধরে শনিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খারদিয়া এলাকায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মারিজ সিকদার নামে একজন নিহত হয়। আহত হয় অন্তত ৩০ জন।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

সর্বশেষ খবর