২৯ নভেম্বর, ২০২১ ০৬:৫২

‘আমি আর কত বার মারা গেলে ভোট দিতে পারব’

নাটোর প্রতিনিধি

‘আমি আর কত বার মারা গেলে ভোট দিতে পারব’

দিপেন্দ্র নাথ সাহা

দিপেন্দ্র নাথ সাহা (৫২) নাটোরের লালপুর উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের জোতদৈবকী গ্রামের বাসিন্দা ও লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক। 

রবিবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে তিনি দেখেন মৃতের তালিকায় তার নাম। মৃত ব্যক্তি হিসেবে ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ পড়ায় তিনি ভোট দিতে পারেননি।

এ নিয়ে আক্ষেপ করে দিপেন্দ্র নাথ সাহা গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, তিনি আর কত বার মারা গেলে ভোট দিতে পারবেন। মৃত ব্যক্তি হিসেবে ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ পড়ায় তিনি ভোট দিতে পারেননি। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা অনুসারে দ্বিতীয় বারের মতো মারা গেছেন। তাই ভোট দিতে পারেননি।

শিক্ষক দিপেন্দ্র নাথ সাহা বলেন, জীবনে অনেকবার ভোট দিয়েছেন। শিক্ষক হিসেবে ভোট গ্রহণের দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০১৫ সালে হঠাৎ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন নির্বাচন কমিশনের কাগজপত্রে মৃত ব্যক্তির তালিকায় তার নাম।  

কেন্দ্র থেকে ফিরে এসে লালপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা সংশোধনের লিখিত আবেদন করেন। দীর্ঘ তিন বছর নির্বাচন অফিসে ঘোরাঘুরি করে ২০১৮ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করে মৃত থেকে জীবিত হন। নির্বাচন কার্যালয় থেকে আশ্বস্ত করা হয় ভোটার তালিকা সংশোধন হয়ে যাবে এবং তিনি ভোটও দিতে পারবেন। কিন্তু রবিবার ইউপিতে ভোট দিতে গিয়ে দেখেন মৃতের তালিকাতেই তার নাম পড়ে আছে। ফলে ভোট দিতে পারেননি। 

লালপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাসিব বিন সাহাব বলেন, সার্ভারে এনআইডি কার্ড সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভোটার তালিকা কেন সংশোধন হলো না, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

সর্বশেষ খবর