২৫ নভেম্বর, ২০২২ ২০:৩৩

কুড়িগ্রামে আগাম ফুলকপি চাষ হলেও আশানুরূপ ফল নয়

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে আগাম ফুলকপি চাষ হলেও আশানুরূপ ফল নয়

কুড়িগ্রামে আগাম ফুলকপি চাষ করে কৃষকরা লাভবান হলেও সঠিক সময়ে সার ও কীটনাশক প্রয়োগে দীর্ঘসূত্রিকার কারণে ফলন ও ফুলকপির আকৃতি আশানুরূপ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এদিকে, লাভের আশায় বিভিন্নভাবে ঋণ করে জমি পরিচর্চা, কীটনাশক, সার ও অতিরিক্ত শ্রমমূল্য দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।

তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের কোন রকম সমস্যা হবে না। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামে ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে নানা জাতের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আগামভাবে শাকসবজি চাষ লাভজনক হওয়ায় এবার ৩ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে আগাম চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা। ইতোমমধ্যে বাজারে উঠেছে ফুলকপি ও বাঁধাকপি। গত বছর সবজি চাষ করে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন কৃষকরা। ফলে এবার স্বল্প পরিসরে সবজি চাষ করে বেশ লাভের মুখ দেখেছেন তারা।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, সারের অতিরিক্ত মূল্য ও সময় মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফুলকপির কিছুটা ফলন বিপর্যয় ঘটেছে। তাছাড়া কপির আকৃতিও ছোট হয়ে গেছে। ফলে এখানকার সবজি চাষীরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। 

রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মহিধর গ্রামের ফুলকপি চাষী শামসুল আলম জানান, ‘সার থাকার পরও সার পাই না। ডিলাররা বলে স্লিপ আনো। ওদিকে কৃষি কর্মকর্তারা বলে ডিও পাই নাই। এমন হয়রানি করি কি চাষাবাদ করা যায়। শেষ পর্যন্ত পাঁচদিন ঘুরি উপ সহকারী কৃষি অফিসারের কাছে ২৫ কেজি সারের স্লিপ পাইছি। সময় মতো সার দিতে না পারায় এবারের ফলন ভালো হয় নাই। তাতে এবারে ফুলকপি অনেক ছোট আকৃতির হয়া গেইছে।’

হোসেন আলী নামের অপর এক কৃষক জানান, ‘সার ডিলারের গুদামোত রাখছে। হামরা গেলে কয় ডিও পাই নাই। অথচ খোলা বাজারোত ১৪০০ টেকা বস্তা। যেটে সরকার সাড়ে ৭শ টেকায় কৃষকোক বস্তা দেওয়ার কথা।’

তবে মহিধর গ্রামের পাইকার আইজুল ইসলাম জানান, ‘অন্যান্য বারের চেয়ে এবার কপির দাম ভালো পাইতেছি। প্রতিবারে ধরা খাই। এবার ধরা খাই নাই। তবে এবারে আরো লাভ হইতো যদি ঠিকমতো কৃষকরা সার পাইতো। সার না পাওয়াতে ফুলকপির সাইজ কম হইছে।’

রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের মহিধর গ্রামের ফুলকপি চাষী আবুল হোসেন জানান, এবার আমি ৬০ হাজার টাকা খরচ করে ফুলকপি লাগিয়েছি। এখন পর্যন্ত ৯০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছি।

এদিকে, কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত সারের সংকট অস্বীকার করে জানান, আগামভাবে যারা ফুলকপি লাগিয়েছেন তারা ভাল লাভ পাচ্ছেন। আমাদের সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আশা করা যায় শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের কোন সমস্যা হবে না।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর